চুক্তি না হলে বড় হামলার হুঁশিয়ারি
আবরনেতাদের অনুরোধে ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের পরিকল্পিত নতুন হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের আলোচনা চলছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি সমঝোতা হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৫
তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যদি গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কৌশলগত ভুল’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, নতুন করে হামলা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের, ‘দিল্লির ভূগোল বদলে যেতে পারে’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও Israel যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে Iran উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি’ নির্দেশ করছে। যদিও অতীতেও কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি গিয়েও আলোচনা ভেঙে পড়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যদি বোমাবর্ষণ ছাড়াই সমঝোতায় পৌঁছানো যায়, তাহলে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো ফলাফল।’
এরই মধ্যে এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো মোটামুটি বহাল রয়েছে, যদিও মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে। কারণ ইরান এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।





