কুয়েত-বাহরাইনে ইরানের হামলা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির নতুন হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং উভয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: মার্কিন হামলায় ইরানের ৭ সেনা নিহত

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির জনগণকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি

এর আগে ইরানের হামলার কিছুক্ষণ আগে দেশটির কিশ ও কেশম দ্বীপ লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা জানায়, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ হামলার খবর পাওয়া যায়।

গত তিন দিনে কিশ ও কেশম দ্বীপে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।

কেশম দ্বীপকে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ এটি। ধারণা করা হয়, সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হামলা চালায় তাহলে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা শহরে এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সেই দিন শেষ হয়ে গেছে, যখন কেউ আমাদের আঘাত করত আর আমরা তার দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানতাম না।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হলেও গত সপ্তাহে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলার কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে।