যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢুকে আটক সিজেপির দুই মুখপাত্র

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:০০ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দিল্লির যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন বাতিলের একদিন পরই তালাবদ্ধ গেট টপকে সেখানে প্রবেশ করেছেন ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর)  ভারতের গণমাধ্যমে হিন্দুস্তান টাইমসের  প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও দলটির জাতীয় সংগঠন ইনচার্জ অজিঙ্ক শিন্ডে অন্তত ১০ জন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো’। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করেন।

আরও পড়ুন: নিরাপত্তা শঙ্কায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ

আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তারা যন্তর মন্তর পুনরুদ্ধার করেছেন। সৌরভ দাসের ভাষ্য, তাদের এই পদক্ষেপ সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা। অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, যেকোনো মূল্যেই যন্তর মন্তর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিশ্চিত করা হবে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও আন্দোলন বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, আদেশ জারি করে প্রতিরোধ আন্দোলন থামানো যায় না। যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আন্দোলন দমনের এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত পুরো দেশকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করবে।

আরও পড়ুন: টানা তৃতীয় দিন রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিহতের দাবি সৌদির

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন বাতিল করে। এর পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দানকে নতুন বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত জুন ও জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের অনুমোদন বাতিলের পরও সেখানে প্রবেশ করে স্লোগান দেওয়ার ঘটনা দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।