আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীর জামিন
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম জামিন পেয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ তার জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ
মামলাটি মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা হয়। এতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর আদালত গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকসুদাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে বুধবার শুনানি শেষে তিনি জামিন পেলেন।
আরও পড়ুন: ফেরানো হচ্ছে ‘মবের শিকার’ শিক্ষকদের
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। এরপর তারা সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদার সঙ্গে বসবাস করতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ বিষয়ে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় বিছানার ওপর একটি লেখা চিরকুট পাওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
এর আগে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পর ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।





