ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বদলান ৫ দৈনন্দিন অভ্যাস

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ক্যানসার একক কোনো রোগ নয়; এর বিভিন্ন ধরন ও কারণ রয়েছে। সব ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং অ্যালকোহল সীমিত করার মতো অভ্যাস এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যেসব অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে—

আরও পড়ুন: আজ প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন

১. ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন

তামাকের ধোঁয়ায় ক্যানসার সৃষ্টিকারী নানা রাসায়নিক থাকে। দীর্ঘদিন ধূমপানের সঙ্গে ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। শুধু ধূমপায়ী নন, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিরাও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। ধূমপান কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ধূমপান ছাড়ার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ওষুধ ছাড়াই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

২. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করুন

শরীরের সুস্থতার জন্য নিয়মিত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবিক ঘড়ি ঠিক রাখতে সহায়ক।

রাতে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত আলো, বিশেষ করে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো ভালো। তবে নির্দিষ্ট রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরের ডিএনএ মেরামত হয় বা সামান্য নীল আলোতেই মেলাটোনিন নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়—এ ধরনের নির্দিষ্ট দাবিকে ক্যানসার প্রতিরোধের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়।

৩. খাবারের সময় ও খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা আনুন

নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত রাতের খাবার এড়িয়ে চলা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার বিভিন্ন পদ্ধতি বা ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে নির্দিষ্ট ১০, ১২ বা ১৬ ঘণ্টা না খেলে শরীর ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান নিজে থেকেই ধ্বংস করে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বরং শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও আঁশযুক্ত খাবারসহ সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৪. অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক ও রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমান

খাবার সংরক্ষণ ও গরম করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পাত্র ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ করে যে প্লাস্টিক পাত্র গরম খাবারের জন্য ব্যবহারের উপযোগী নয়, তাতে গরম খাবার রাখা বা গরম করা এড়িয়ে চলা উচিত। কিছু প্লাস্টিক ও অন্যান্য ভোক্তা পণ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা রয়েছে। তবে সব ধরনের প্লাস্টিক বা নন-স্টিক পাত্র সরাসরি বিভিন্ন ক্যানসারের কারণ—এমন সাধারণীকরণ করা ঠিক নয়। পণ্যের ব্যবহারবিধি মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানোই নিরাপদ পদ্ধতি।

৫. অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করুন

অ্যালকোহল শরীরে বিপাকের সময় অ্যাসিটালডিহাইডে রূপান্তরিত হয়, যা কোষ ও ডিএনএ ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। অ্যালকোহল গ্রহণের সঙ্গে মুখ, গলা, খাদ্যনালি, লিভার, স্তন ও কোলনসহ কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই অ্যালকোহল না পান করা বা গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনা ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

মনে রাখবেন

কোনো একটি অভ্যাস পরিবর্তন করলেই ক্যানসার প্রতিরোধ নিশ্চিত হয় না। বংশগত কারণ, বয়স, পরিবেশসহ নানা বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার গ্রহণ এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্যানসার স্ক্রিনিং করাও গুরুত্বপূর্ণ।