আজও চলবে ‘বাংলা ব্লকেড’, তীব্র যানজটের শঙ্কা
কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। মিছিলটি শাহবাগ, কৃষ্ণাপ্রিয়া, পল্টন হয়ে ফার্মগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবরোধ কর্মসূচিতে রোববার ‘বাংলা ব্লকেডে’ স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। একইভাবে সোমবারও (৮ জুলাই) কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে বিকেল ৩টার পর থেকে সড়কে অবস্থান নেবেন তারা। এতে রোববারের মতো তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন: দিনে দিনে ইলিশ আরও ছোট হচ্ছে উৎপাদনও কমছে, নেপথ্যে কী
এ ছাড়া একই সময়ে সারাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এই বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করবে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকাল বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। চার দফা নয়, এক দফা দাবিতে সোমবার সারাদেশে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে। এক দফা দাবি হলো সব গ্রেডে সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপলো ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা
এর আগে, বাংলা ব্লকেডের কারণে রোববার অচল হয়ে পড়ে ঢাকার বড় অংশ। যানজটের চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।
ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে সে বছরের ৪ অক্টোবর কোটাপদ্ধতি বাতিলবিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর মাধ্যমে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠে নামছেন।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা পরিপত্র পুনর্বহালের পাশাপাশি আরও কিছু দাবি জানাচ্ছেন। এগুলো হলো, পরবর্তী সময়ে সরকার কোটাব্যবস্থা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া, সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা, চাকরির নিয়োগের পরীক্ষায় কোটাসুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করার সুযোগ বন্ধ করা ও কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।





