সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ঢাকার সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ফজরের নামাজের পর দেশব্যাপী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সকল স্থাপনার মসজিদে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের গর্ব—যারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাহিনীর কার্যক্রম সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণ দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: নির্বাচন ডাকাতি বন্ধ করতে আগের জড়িতদের চেহারা সামনে আনতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা প্রদানসহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, গত দেড় বছরে বাহিনীর নিবেদিত ভূমিকা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
আরও পড়ুন: জাপানি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
পরে প্রধান উপদেষ্টা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে নির্ধারিত কার্যালয়ে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দুপুরের পর বাহিনী প্রধানরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা আজ বিকেলে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেবেন। অনুষ্ঠানে ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর ও তাঁদের পরিবারকে বিশেষ শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হবে।
দিনের শেষাংশে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং সামরিক-বেসামরিক অতিথিবৃন্দ। বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।





