গত তিন নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণ জানালেন প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইইউ এবার বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে লড়াইয়ে বাংলাদেশ, সরে দাঁড়াল ফিলিস্তিন
শফিকুল আলম জানান, ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ইইউ জানিয়েছে—আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল না এবং সে কারণে তারা কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি।
তিনি বলেন, “বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশে ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে। সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে না।”
আরও পড়ুন: এ ধরনের বর্বরতা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না: ধর্ষণ ইস্যুতে সাদিক কায়েম
প্রেস সচিব আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। পতিত সরকারের কিছু ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা বাংলাদেশে প্রচলিত সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে বিবেচিত। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে অনেক ঘটনায় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৈঠকে গণভোট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন—গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য করতে ইসিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা প্রস্তুত আছে।”
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, নরসিংদীর মনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডটি পারিবারিক বিরোধের জের বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কিন্তু ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, যাচাই ছাড়া প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়া উচিত নয়।





