এবার ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
উপদেষ্টা আজ বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত 'ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা'য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি
সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আইজিপি বাহারুল আলম বিপিএম।
উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচনসমূহে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ নিয়োজিত থাকত। কিন্তু এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে কমপক্ষে দুইজন পুলিশ ও তিনজন আনসার থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন পুলিশসহ ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন আনসার সদস্য থাকবেন, যার মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন মহিলা আনসার।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের দিন ও আগে সহিংসতার দায় আ.লীগের: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। এজন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো—প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, বডি ক্যামেরা ব্যবহার, সিসিটিভি স্থাপন, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার। এছাড়া প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা "পোস্টাল ভোট বিডি" অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় নয় লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে দুই পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রথম পর্যায়ে চলমান সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন চলবে।
উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে সিআইডি'র বিভিন্ন স্তরের অফিসারদের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য পুরস্কার বিতরণ করেন।





