লীগের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা শীর্ষ পদে

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পদায়নে আওয়ামী পুনর্বাসনের নানা অভিযোগ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৭ অপরাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে সাম্প্রতিক বদলি ও নিয়োগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বৈরাচারী  ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলের ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের দিয়েই সচিবালয় সাজানো হচ্ছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। সম্প্রতি এই পদায়ন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত আইনজীবী জনতা। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি। 

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ আশফাকুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রুহুল আমিন। এই দুই কর্মকর্তার অতীত ভূমিকা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

আরও পড়ুন: হাদি হত্যার তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

শেখ আশফাকুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ আশফাকুর রহমান বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলোতে জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত জামিন নামঞ্জুর করতেন। এমনকি যারা জামিন দিতেন, তাদের তিরস্কার করতেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৪৪তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ১,৪৯০ জন

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার পর ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম জেলা কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন তিনি। ওই মানববন্ধনে ও পরবর্তী সমাবেশে দেওয়া তার বক্তব্য বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়।

১২ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে দৈনিক সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ আশফাকুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি বিচারক হয়েও রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এমন মন্তব্য করেন যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়া কোনো বিচারকের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ জুডিসিয়াল সার্ভিস রুলস ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া আইনসঙ্গত ছিল।

এছাড়া দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে, যা আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিদেশ সফর ও ‘জুডিসিয়াল ক্যু’র অভিযোগ

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাত্র তিন মাস আগে পালাতক সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন শেখ আশফাকুর রহমান। অভিযোগকারীদের মতে, ওই সময় বিচার বিভাগে আওয়ামীপন্থী প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চলছিল।

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কোর্ট, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগর দায়রা জজসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন শেখ আশফাকুর রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বল্প সময়ের জন্য সিলেটের জেলা জজ হিসেবে বদলি হলেও পরবর্তীতে আবার ঢাকায় ফিরে লিগ্যাল এইডের ডিজি এবং সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।

এদিকে একই সফরের সঙ্গী আইন সচিব গোলাম সারোয়ার ও উপসচিব গোলাম মাহবুবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলেও শেখ আশফাকুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

রুহুল আমিন ও অন্যান্য নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক

একই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রুহুল আমিন।

 অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের এডিশনাল রেজিস্ট্রার, রাজবাড়ীর জেলা জজ এবং আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর ভাতিজি সাদিয়া আফরিনকে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক প্রভাবের কারণেই এসব নিয়োগ হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষার দাবি

বিভিন্ন মহল মনে করছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে এ ধরনের নিয়োগ ও বদলি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। তারা দাবি করছেন, বিচার বিভাগকে আওয়ামীকরণ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।