জামায়াত পরোক্ষভাবে একাত্তরের ভূমিকা স্বীকার করেছে: আইনমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংশোধনের প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামী ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তবে সংসদে আইনটি পাসের সময় দলটি কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে জামায়াত একাত্তরে তাদের ভূমিকা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২-এ মুক্তিযোদ্ধার একটি সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ওই সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিল—এমন উল্লেখ ছিল। পরে ২০২৫ সালে আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ

আসাদুজ্জামান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংশোধনের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে। বিষয়টি বিশেষ কমিটিতে আলোচনার সময়ও দলটির পক্ষ থেকে একই দাবি জানানো হয়েছিল।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত আইনে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ ও ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করা সম্ভব নয়—এমন অবস্থান থেকেই আলোচনার মাধ্যমে ‘তৎকালীন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংসদে আইনটি পাসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন পাসের ক্ষেত্রে সংসদে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রক্রিয়া রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংশোধনের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি।

প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে একটি বক্তব্যের খসড়া তৈরি করেছিলেন। সেখানে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে একাত্তরের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

আসাদুজ্জামান বলেন, ওই বক্তব্যে স্বাক্ষর করা হলে জামায়াতকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত। তাঁর মতে, একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের অবস্থান তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে।

অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটির প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী এটিকে ‘জ্ঞানকোষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বইটি শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী নয়; বরং ব্যারিস্টার রাজ্জাকের জীবন, দর্শন ও সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিচ্ছবি।

ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চিন্তার সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য থাকলেও ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি একজন আইনবিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গদ্য বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।