সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থিতা ঝুলে গেল এনসিপির মনিরা শারমিনের, বাড়তে যাচ্ছে বিএনপির আসন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৯ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে সরকারি চাকরি ত্যাগসংক্রান্ত বাধ্যতামূলক আইনি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিলের জন্য তাকে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় তার মনোনয়ন বাতিলের ঝুঁকি বহাল থাকবে। আর তার মনোনয়ন বাতিল হলে একটি সংরক্ষিত নারী আসনে পুনরায় তফসিল ঘোষণা হবে এবং তাতে সংসদের সব সদস্য ভোট দেবেন, যেখানে বিএনপির সংসদ সদস্য অনেক বেশি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে বুধবার অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমে এই সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন। দুই দিনব্যাপী যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হলেও মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতির বিষয়টি চিহ্নিত হয়।

আরও পড়ুন: মনোনয়ন জমা মূলত ৫০ টিই: প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ‘নির্ধারিত’ নির্বাচনের পথে সংসদ

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে তাকে চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত করতে হয়। কিন্তু মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে নির্বাচনে প্রার্থী হন, যা বিদ্যমান আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বাছাইকালে তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থনযোগ্য কাগজপত্র ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় ইসি। ফলে বিধি মোতাবেক তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রার্থিতা স্থগিত রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথিপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা সেলিনা রহমানের

একই দিনে বৈধ ঘোষিত অন্য ১২ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন—জামায়াতে ইসলামীর নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও সামসুন নাহার। জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির ডা. মাহমুদা আলম মিতু, জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহবুবা হাকিম এবং শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মইন উদ্দীন খান। এ সময় কমিশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এদিকে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি পুনরায় উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে বলে নির্বাচনী বিশ্লেষকদের ধারণা। সেক্ষেত্রে নতুন তফসিলে ভোট অনুষ্ঠিত হলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে বিএনপি জোট সম্ভাব্যভাবে অতিরিক্ত একটি আসন লাভ করতে পারে, আর জামায়াত জোটের আসনসংখ্যা কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পর নুসরাত তাবাসসুম নামে আরেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রচেষ্টাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার নথিতে ১৯ মিনিট বিলম্বের বিষয়টি উল্লেখ থাকায় তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে জোট সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল হবে না বলে তারা আশাবাদী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে আইনি জটিলতা নিরসন হবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।