বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ৭৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত

Sadek Ali
শাহরিয়ার ইসলাম
প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:২২ পূর্বাহ্ন, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ৭৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস ও বিশেষ বক্তৃতা সভা শুক্রবার সোসাইটি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও সোসাইটির পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে শিবির নেতা নিহত

সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সোসাইটির অডিটোরিয়ামে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ওসমান হাদি-সহ বিগত বছরে প্রয়াত সোসাইটির সম্মানিত সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে সোসাইটির চলমান গবেষণা কার্যক্রম, নতুন প্রকল্প ও শিক্ষা প্রসারে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: টেকনাফে ১৮ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল কোস্ট গার্ড

প্রতিষ্ঠা দিবস বক্তৃতা পর্বে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ‘ডাফরিন রিপোর্টে (১৮৮৮) বঙ্গদেশে দারিদ্র্যের চিত্র’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি উনিশ শতকের শেষভাগে বাংলার অর্থনৈতিক বাস্তবতা, গ্রামীণ দারিদ্র্যের গভীরতা এবং সমকালীন প্রশাসনিক প্রতিবেদনভিত্তিক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. শাজাহান মিয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ পথচলার মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি আজ একটি মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জ্ঞানপিপাসু ও গবেষণামুখী ব্যক্তিবর্গের ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমই এই অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি। তিনি সোসাইটির অগ্রগতিতে অবদান রাখা প্রয়াত ও জীবিত সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য লেখক, শিক্ষক, গবেষক, সোসাইটির ফেলো ও কাউন্সিল সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত বক্তাকে সোসাইটির পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। সাধারণ সম্পাদকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।