ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পাশে ৯ মাসের শিশুর নিথর দেহ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৬ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষে তার ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিম হোসেনের নিথর দেহ পাওয়া যায়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বর্ণালীর মরদেহ পাওয়া যায় এবং তার পাশেই মেঝেতে পড়ে ছিল শিশুটির মরদেহ। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা—তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: বগুড়ার উন্নয়নে শুধু ঘোষণা হয়েছে, কিছু বাস্তবায়ন হয়নি: আতিকুর রহমান রুমন

নিহত স্বর্ণালীর পরিবারের দাবি, তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বর্ণালী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর জুয়েলকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দীর্ঘদিন স্বামীর কারাবাস ও পারিবারিক টানাপোড়েনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন স্বর্ণালী।

নিহতের ভাই পরিচয়ে শুভ হালদার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বোনের স্বামী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সরকারের পতনের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। জামিনের চেষ্টা করা হলেও তা হয়নি। এসব কারণে আমার বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে মানসিক চাপে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”

আরও পড়ুন: রমজানে এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছে নয়শত মুসল্লি

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী ও তার ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিম হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা না আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানানো হবে।