গলাচিপায় দুই সেতু নির্মাণে ধীরগতি: চরম ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী, নলুয়াবাগী, গজালিয়া ও পার্শ্ববর্তী ডাকুয়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ গত ছয় বছর ধরে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়েও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রতিদিন স্কুলগামী শিশু, রোগী, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোতের মধ্যে জীবন হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগী নিয়ে নৌকা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে এবং কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভের মুখ দেখছেন না স্থানীয় কৃষকরা।
২০২০ সালে নলুয়াবাগী নদীর ওপর ৫৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়িয়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন অংশে নামমাত্র কাজ চললেও এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়নি। অন্যদিকে, ২০২১-২২ অর্থবছরে গজালিয়া নদীর ওপর প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানেও অবস্থা আরও শোচনীয়; দুই পাড়ের বেজমেন্ট ছাড়া মাঝনদীতে কোনো কাজই শুরু হয়নি। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা ভাঙা অংশে বাঁশ ও কাঠের পাটাতন দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বিপজ্জনক সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন, যার ফলে প্রায়ই শিশুরা বই-খাতা নিয়ে খালে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এই অচলাবস্থার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূমি জটিলতা ও ঠিকাদারের কাজের ধীরগতিকে দায়ী করেছেন। তবে তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। একইভাবে পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক ও কারিগরি কিছু জটিলতা থাকলেও তারা ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নিয়মিত তাগিদ দিচ্ছেন। প্রশাসনের এই আশ্বাসের ভিড়ে স্থানীয় মানুষের দাবি, দ্রুত এই সেতু দুটির কাজ শেষ করে তাদের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।





