চাঁদপুরে সৎমেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ: পলাতক সৎপিতার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ন, ১৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪০ অপরাহ্ন, ১৫ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চাঁদপুর সদর মডেল থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৬) আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎপিতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা সুমি আক্তার বাদী হয়ে গত ৯ মার্চ চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে চাঁদপুর শহরের বিপনীবাগ বাজার সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের নিচতলায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আরিফ হোসেন (৩৮), তিনি মৈশাদী ইউনিয়নের পালকান্দি গ্রামের বাদশা মিজির ছেলে।

আরও পড়ুন: নান্দাইলে এতিমখানা ও মাদ্রাসা সহ হতদরিদ্রদের মাঝে সৌদি খেজুর বিতরণ

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আল-আমিন একাডেমি ছাত্রী শাখার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ভিকটিমের সৎপিতা। দীর্ঘদিন ধরেই লম্পট প্রকৃতির এই ব্যক্তি মেয়েটিকে উত্যক্ত করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিত। বিষয়টি ভিকটিম তার মাকে জানালে, মা সুমি আক্তার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ হোসেন মা ও মেয়ে উভয়কেই প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

গত ৪ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিম প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফ হোসেন আগে থেকেই ওত পেতে ছিল এবং আল-আমিন স্কুল এলাকা থেকে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে বা জোরপূর্বক বিপনীবাগ বাজার এলাকার হারুন নামক জনৈক ব্যক্তির ৭ম তলা বিল্ডিংয়ের নিচতলায় নিয়ে যায়। সেখানে দুপুর ২টা পর্যন্ত আটকে রেখে ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

আরও পড়ুন: কারখানা স্থানান্তরের প্রতিবাদে আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ঈদের আগে পাওনা পরিশোধের দাবি

ঘটনার পর লোকলজ্জা ও প্রাণের ভয়ে ভিকটিম শুরুতে চুপ থাকলেও পরে বিস্তারিত তার মাকে জানায়। এরপর ভিকটিমকে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ এবং আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ করতে কয়েকদিন বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী সুমি আক্তার।

এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আরিফ হোসেন পলাতক রয়েছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ভিকটিমের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

ভুক্তভোগী মা সুমি আক্তার তার মেয়ের ওপর হওয়া এই পাশবিক নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। বর্তমানে এলাকায় এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।