ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই সমাজের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ নিহত ২

Sanchoy Biswas
চন্দন কুমার দেব, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ২৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ২৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গোয়ালনগরে দুই সমাজের চলমান বিরোধের জেরে দুই দল গ্রামবাসীর ভয়াবহ সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক ব্যক্তি।

একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের চৌরা সমাজ ও হোনারো সমাজের মধ্যে রমজানের শুরু থেকেই বিরোধ চলছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে কয়েকটি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে বেলা প্রায় ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষের ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি বাড়তে থাকে, ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অন্তত ৭টি গ্রামে। পাশ্ববর্তী লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা ও কদমতলী গ্রামের লোকজনও জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে।

আরও পড়ুন: ঈদ পারস্পরিক সৌহার্দ্যতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে: লায়ন গনি মিয়া বাবুল

পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে দুইজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতরা হলেন চৌরা সমাজের মাওলানা হাবীবুর রহমান (৪০) এবং হোনারো সমাজের আক্তার হোসেন (৫০)। মাওলানা হাবীবুর রহমান স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন।

এ ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতরা নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় গণধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার, র‍্যাবের অভিযান

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব থেকেই সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা হয়তো এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, “বেশ কিছুদিন যাবৎ দুই সমাজের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একাধিক উপায়ে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আজ সকালে দুই পক্ষের লোকজন প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন এতে অংশগ্রহণ করেছে।”

এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে সকালে মারামারি শুরু হয়। এতে দুজন নিহত হয়েছেন। একজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজনের লাশ পুলিশের হেফাজতে আছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”