পাবনায় চিনা বাদামের বাম্পার ফলন

Sadek Ali
এস আর শাহ্ আলম, পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৫:১০ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি মৌসুমে পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় চাষকৃত চিনা বাদামের বাম্পার ফলনে মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে কৃষকদের। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে চিনা বাদামের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আগে তীব্র খরায় কিছু কিছু জমির বাদাম গাছ  ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, তিনি  এ বছর ৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন।  বাদাম বীজ বপণের কিছুদিন পরেই তাপপ্রবাহ খরায় কিছু জমির বাদাম গাছ রোদে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়ওয়ায় বাদাম গাছগুলো পুনরায়  তরতাজা হয়ে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। গত দুই সপ্তাহ হলো চর অঞ্চলের অনেক এলাকার বাদাম চাষিরা ক্ষেত থেকে বাদাম তুলে এনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের আড়ৎ এবং বেপারিদের কাছে বিক্রি করছেন এবং ভালো দামও পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন,  প্রতি মণ ভেজা বাদাম  ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার  টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে এবং শুকনো বাদাম তার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করছেন কৃষকরা।

পেচাকোলা গ্রামের আমিন মন্ডল , বলেন তিনি এ বছর দশ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে, বিঘা প্রতি ফলন নেমেছে গড়ে ৭ মণ করে। প্রতি মণ শুকনো  বাদাম হাটে গড়ে ৫-৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।চর সাফুল্লাহ গ্রামের বাদাম চাষি গজনবী মোল্লা বলেন, তিনি ৯ বিঘা জমিতে  চিনাবাদাম চাষ করেছিল প্রচন্ড খরায় তার দুই বিঘা জমির চিনা বাদাম রোদে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়  বাকি ৭ বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ মণ বাদামের ফলন হয়েছে। নাকালিয়া বাজারে বাদামের আড়ৎে এনে  গড়ে সে ৫ হাজার টাকা মণে বিক্রি করেছেন। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছে বলে তিনি জানান। সরজমিনে উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়,কৃষকরা খেত থেকে  বাদাম গাছ থেকে তুলে এনে মহিলা শ্রমিক দিয়ে গাছ থেকে বাদাম ছিঁড়ছেন।পেচাকোলা গ্রামের জুলেখা,  আমেনা,মনজেলা সহ অনেক মহিলা শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায় , বাদাম ছিঁড়ে তারা বাদাম গাছগুলো পারিশ্রমিক হিসেবে জ্বালানি কাজে ব্যবহারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যায়।এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির বলেন,

আরও পড়ুন: শিশু রোজিনার কান্না সীমান্তে, হরিপুরে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত

কৃষি অফিস থেকে বাদামের বীজ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা সহ মাঠ পর্যায়ে বাদাম চাষিদের এ ফলন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।চলতি বছর বেড়া উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে চিনাবাদামের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।তন্মধ্যে উপজেলার চরাঞ্চলেই বেশি। তিনি আরও বলেন স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় এবং চরাঞ্চলের অর্থকারী ফসল চিনা বাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। এ বছর  চরাঞ্চলের কোনো বাদামের জমি ডুবে না যাওয়া এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশাতীত চিনাবাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে।  তাই প্রতি বিঘায় ৮ মণ করে ফলন হয়েছে বাজারেও দাম পাওয়া  যাচ্ছে ভালো, এ পর্যন্ত উপজেলায় চাষকৃত  প্রায় অর্ধেক জমির চিনা বাদাম কৃষকরা ঘরে তুলেছে বাকি জমি গুলোর বাদাম আরো তিন সপ্তাহের মধ্যে তোলা শেষ হবে বলে তিনি বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানিয়েছেন।