রংপুরে চার খুনের আলামত ধুয়েমুছে ফেলা হয়নি: পুলিশ কমিশনার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৫ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) নবাগত কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। এ সময় তিনি জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: গাকৃবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ

মাহবুবুর রশীদ বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ মামলা নিয়ে সারাদেশে নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে মামলাটি সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করাই পুলিশের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান তারা।

আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনাস্থলের কোনো আলামত ধুয়েমুছে ফেলা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব সন্ত্রাস করেছে এনসিপির লোকজন

আরএমপি কমিশনার বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো ক্লু পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এটা পুলিশের কাজ, তবে সবার কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি এখানে ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। এই ঘটনা এবং মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্নও আসবে। সেই প্রশ্নগুলোর পেশাদারিত্বের সঙ্গে জবাব খুঁজে বের করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপর একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরে এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।