করিমগঞ্জে তীব্র গরমে লোডশেডিং: ভোগান্তিতে শিশু শিক্ষার্থীরা
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গত প্রায় দেড় হতে দুই মাস ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাথরঘাটায় ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের বড়চর গ্রামের বাসিন্দা সুলাল মিয়া বলেন, "আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।"
গুজাদিয়ার ঝাটিয়াপাড়া এলাকার মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার তাবাসসুম এর বাড়িতে রাতে গিয়ে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ের কারনে মোমবাতি জ্বালিয়ে বই পড়ছেন৷ এ বিষয়ে তাবাসসুমের বাবা মোঃ হিমেল মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, "এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হওয়ায় মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।”
আরও পড়ুন: ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় জৈন্তাপুরে নারী-শিশুসহ আটক ৮
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন ভূঁইয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
করিমগঞ্জ কলেজ মোড়ে চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন বাবুল মিয়া। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাবুল মিয়া বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।
করিমগঞ্জ জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ আখতার উজ জামান 'বাংলাবাজার পত্রিকা'কে বলেন, "প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "করিমগঞ্জ উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।"
বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় করিমগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।





