ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ব্যবধানে ধানের শীষের জয়

Shahrier Islam Pallab
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ন, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৬ অপরাহ্ন, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫০ ভোট। তবে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াত প্রার্থী।

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে মোতায়েন ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর ৫ হাজার ৩০০ সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে ২১ প্লাটুন বিজিবি এবং এসআরবি-১৩-এর আটটি টহল দল।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫০ ভোট। এ ছাড়া বটগাছ প্রতীকের আবদুল আলীম নিজামী পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের খাদেমুল ইসলাম ৩ হাজার ২৮৮ ভোট এবং ডাব প্রতীকের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট। নির্বাচনে বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ১৬৩টি ভোট।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ

বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। পাশাপাশি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিজয়ী প্রার্থী। এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘এই বিজয় জনগণের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিজয়।’

অন্যদিকে, ফল ঘোষণার পরপরই নির্বাচনে অনিয়ম, জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দিনভর ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সরেজমিনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে। কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা চোখে পড়েনি। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোটারদের পরিচয় যাচাই করে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সী ভোটারের উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

এবারের উপনির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবার ভোট দিতে পেরে অনেক তরুণ ভোটার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ আট মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত হন। রিয়াজ মাহমুদ নামে এক তরুণ ভোটার বলেন, ‘যদিও এটি উপনির্বাচন, তবু জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।’

অপু নামে আরেক ভোটার বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে ভোটার হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। কিন্তু এবার আট মাসের ব্যবধানে দুইবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আমার জন্য সত্যিই আনন্দের। কখনো ভাবিনি একই আসনে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইবার ভোট দিতে পারব। আগে শুনেছি, ভোটাররা ঠিকভাবে ভোট দিতে পারতেন না। কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে যেত। কিন্তু এবার কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছি।’

সোহেনী রায় নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার বলেন, ‘আগে ভোটের সময় অমুককে ভোট দিতে হবে, তমুককে ভোট দিতে হবে—এমন চাপ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার তা দেখা যায়নি। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

উপনির্বাচন ঘিরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন চারজন। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।