সহযোগিতা ও সংহতি যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্র ততই শক্তিশালী হবে: সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক

Shahrier Islam Pallab
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫০ অপরাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সংহতি যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্র ততই শক্তিশালী হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন উল্লেখ করে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ইতিহাস কেবল একটি জাতির ঘটনাপঞ্জি নয়, ইতিহাস হচ্ছে একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, সাহস, আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতে পথচলার দিকনির্দেশনা। যে জাতি ইতিহাসকে যথাযথভাবে জানতে ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই জাতি তার ভবিষ্যৎ আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাণ করতে পারে।

শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশ সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ঢাকার সেনানিবাসে সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও সেদিনের ঘটনাপ্রবাহে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। সিপাহি-জনতার যৌথ প্রয়াসে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন।

তিনি আরও বলেন, দিবসটির নামের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। বিপ্লব একটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে এবং সংহতি সেই পরিবর্তনকে সম্মিলিত শক্তি ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা জোগায়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। 

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবির্ভূত হন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের উদ্যোগ, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়গুলো তাঁর শাসনামলে গুরুত্ব পায়।

৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুধু ১৯৭৫ সালের ঘটনাবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দিবসটি জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির বিষয়গুলো নতুন করে তুলে ধরে। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করি, যেখানে আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানুষের মর্যাদা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।

তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপন এবং সরকারি ছুটি হিসেবে পুনর্বহালের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতীয় দিনগুলো যথাযথভাবে স্মরণ করা এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি । জাতীয় ঐক্য ও চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ইমরান হাসান চৌধুরী। 

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মল্লিক মইন উদ্দিন সুহেল, নাদীর আহমেদ, রেজাউল হক, আকবর আলী। 

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে নিয়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।