ঈদের ছুটি শেষে কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে রাজধানী ঢাকা

Any Akter
এ্যানি আক্তার
প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

# সড়ক-মহাসড়কে বাড়ছে গাড়ির চাপ

# কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়

আরও পড়ুন: রিকশা ও অটোরিকশা লাইসেন্স ও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

# ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ

পবিত্র ঈদ-উল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে রাজধানী ঢাকা। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আদালত খোলায় সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীর মতো বাস টার্মিনাল- রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা গেছে ফিরতি যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং স্টেশনগুলোতে কর্মজীবী মানুষের ফিরতি ভিড় দেখা গেছে। এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি নগরীর চিরচেনা ব্যস্ত রূপ। তবে রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা এবং দোকানপাট খোলার সাথে সাথে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে প্রাচ্যের নগরী ঢাকা। রাজধানীর আগের চেনা ব্যস্ত রূপে ফিরতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর প্রবেশমুখ সাইনবোর্ড-ডেমরা ও যাত্রাবাড়ি-সায়েদাবাদ, ফার্মগেট, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমনচিত্র দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ

সরেজমিনে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা টানা সাত দিনের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় ঢাকা নগরীর সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ এবং গণপরিবহনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করলেও স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় সড়ক এখনো অনেকটাই ফাঁকা। বিভিন্ন মোড়ে যানবাহন থামতে হলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট চোখে পড়েনি। রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রী ছাউনিতেও মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। অনেক বাস তুলনামূলক কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। তবেপরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ এখনও পুরোপুরি ঢাকায় ফেরেনি। প্রধান সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহনের উপস্থিতি বেড়েছে। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অফিসগামী মানুষের আনাগোনাও দেখা গেছে। গাবতলী-ডেমরা রুটে চলচলকারী বাসের হেলপাররা বলেন, ঈদের ছুটির শুরু থেকে যাত্রীসংখ্যা এখনো অনেক কম। তবে অফিস খোলা থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে গাড়ির সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। বাড্ডা রুটে চলা ভিক্টর ক্লাসিক বাসের চালকের সহকারী সোহেল বলেন, ঈদের আগে যেমন ভিড় থাকে এখনো সেই অবস্থা হয়নি। 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ: ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ। গণপরিবহনের সংকটসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছে যাত্রীরা। মহাসড়কের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর, এলেঙ্গা, রাবনা, নগরজালফৈসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের চাপ দেখা গেছে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট বা জটলা চোখে পড়েনি। পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত কয়েক দিন যাবত মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কালিহাতীর নারান্দিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ঢাকায় যাওয়ার জন্য প্রায় ১ ঘণ্টা যাবত অপেক্ষা করছি। ভালো মানের বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও আড়াইশো টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা চাচ্ছে। গাবতলীগামী হেনা বেগম বলেন, ঈদের আগেও বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাড়িতে এসেছি। এখানো অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে। আমার মতো সাধারণ মানুষের সব সময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে আলাদা করে দুইটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট নেই।

কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়: ঈদের ছুটি শেষে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে কর্মব্যস্ততা। ফলে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার কর্মীরা। এজন্য রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বিমানবন্দর ও কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ট্রেনগুলো ফিরেছে যাত্রী ভর্তি করে। ট্রেন থেকে নেমেই অনেককে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বাস, মেট্রোরেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রাইড শেয়ারিং সেবার দিকে ছুটতে দেখা যায়। এদিন সকাল থেকেই বিমানবন্দর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলো ছিল ব্যস্ত। একের পর এক আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নামতে থাকেন যাত্রীরা। স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথেও ছিল মানুষের ভিড়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফেরা যাত্রীদের পাশাপাশি একাই কর্মস্থলে ফিরেছেন এমন যাত্রীর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ট্রেনগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা ছিল বেশ বেশি। ট্রেন থেকে নামার পর অনেকেই প্ল্যাটফর্মে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আবার কেউ কেউ লাগেজ নিয়ে দ্রুত স্টেশন ত্যাগ করেন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে জামালপুর থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রেনে ভিড় ছিল, তবে যাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক ছিল। সময়মতো ট্রেন পৌঁছেছে, এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা। ময়মনসিংহ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্যাম্পাসে ফিরতে হচ্ছে। ট্রেনে যাত্রী অনেক ছিল, তবে যাত্রা নিরাপদ ছিল। ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌপথে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভোর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর ভিড় ও যাত্রীদের উপচে পড়া উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে 

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে বাড়ি ফেরার সময় যে ধরনের চাপ ও ভোগান্তি দেখা যায়, ফিরতি যাত্রায় এবার তা তুলনামূলক কম ছিল। বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি সময়ে ঢাকায় পৌঁছেছে। ফলে যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে রাজধানীতে ফিরতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।বিমানবন্দর রেলস্টেশনকে ঘিরে আশপাশের এলাকাতেও দেখা গেছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। স্টেশনের বাইরে যাত্রী পরিবহনে ব্যস্ত ছিলেন রিকশাচালক, সিএনজি চালক ও রাইড শেয়ারিং সেবার চালকেরা। স্টেশন থেকে বের হওয়া মানুষের চাপের কারণে কিছু সময়ের জন্য সড়কেও যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায়। তবে ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছে। তবে স্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন রেলকর্মী জানান, ঈদ-পরবর্তী যাত্রীচাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামা নিশ্চিত করা এবং তথ্যসেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে রেলওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদেরও সক্রিয় দেখা গেছে।