মঞ্চ থেকে বড় পর্দা, অভিনয়ে নিজস্ব পরিচয় গড়ছেন সূচনা শিকদার
আহমেদ শাহাবুদ্দীনের রচনায় এবং শামীম জামানের পরিচালনায় মাছরাঙা টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক ‘এক পাতিলের সংসার’ -এ 'নাহার' চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন বর্তমান সময়ের বাংলাদেশর অভিনয় জগতের একজন প্রতিশ্রুতিশীল, বহুমুখী ও স্বতন্ত্রধারার অভিনেত্রী সূচনা শিকদার। বিলুপ্তপ্রায় একান্নবর্তী পরিবারের সুখ-দুঃখ, টানাপোড়েন ও নানা পারিবারিক জটিলতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নাটকটির গল্প।
নাটকটিতে সূচনা শিকদার ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে আরো অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, রোবেনা রেজা জুঁই, আখম হাসান, ফারজানা মিহি, শামীম জামান, জয় রাজ, রেজমিন সেতু, আহসানুল হক মিনু, শফিক খান দিলু, শেলী আহসান, সালাউদ্দিন লাভলু, সাদ্দাম মালসহ আরও অনেকে।
আরও পড়ুন: পড়াশোনার ফাঁকে সিনেমা, দেশের ১০ প্রেক্ষাগৃহে ‘অন্যপাতা’
বাংলাদেশের অভিনয়জগতের একজন প্রতিশ্রুতিশীল, বহুমুখী ও স্বতন্ত্রধারার অভিনেত্রী সূচনা শিকদার। মঞ্চনাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে টেলিভিশন নাটক, শর্টফিল্ম এবং চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।
মঞ্চ থেকেই অভিনয়ের শুরু ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল সূচনা শিকদারের। সেই ভালোবাসা থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ‘অন্তরঙ্গ’ থিয়েটার-এর মাধ্যমে তার মঞ্চজীবনের সূচনা।
আরও পড়ুন: নেটফ্লিক্সে মোশাররফ করিমের দুই জনপ্রিয় সিরিজ
আমিনুল ইসলাম বাচ্চুর নির্দেশনায় ‘চোখ’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে তার অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে একই নির্দেশকের ‘ফুলজান’ নাটকে ৩০টিরও বেশি মঞ্চায়নে অংশ নিয়ে দর্শক ও নাট্যসংশ্লিষ্টদের প্রশংসা অর্জন করেন।
মঞ্চ তাকে অভিনয়ের যে ভিত তৈরি করে দিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সেই অভিজ্ঞতাই হয়ে ওঠে তার অন্যতম শক্তি। মঞ্চের পর টেলিভিশন নাটকে সূচনা শিকদারের অভিষেক হয় নাট্যকার ও নির্মাতা কঁচি খন্দকারের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
আরটিভি, চ্যানেল আই, এনটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেছেন তিনি। একক নাটক, ধারাবাহিক ও শর্টফিল্ম মিলিয়ে তিনশতাধিক কাজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
তার অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি নিজেকে শুধু প্রচলিত নায়িকা চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং নানা বয়স, শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্যের চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে একজন চরিত্রাভিনেত্রী ও বহুমুখী অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন।
সূচনা শিকদারের অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ' সেন্টিমেন্টাল সেলিম',' সিনেমা হল, 'ভ্যাগাবন্ড','ঘামবাবু','জরুরি বিবাহ','বাজিমাত','বউ বিরোধ', 'কপাল', ' ভালোবাসা এই পথে গেছে',' তেল ছাড়া পরোটা ' সহ আরও অনেক নাটক ও শর্টফিল্ম। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের কাছে পরিচিত ও প্রিয়মুখ হয়ে ওঠেন টেলিভিশনের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও সূচনা শিকদার নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
রাশিদ পলাশ পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘পদ্মাপুরাণ’-এ তিনি একজন অবহেলিত প্রতিবন্ধী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রটির মাধ্যমে তার অভিনয়ের ভিন্নমাত্রা প্রকাশ পায় এবং চলচ্চিত্রে তার সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। ছবিটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন প্রসূন আজাদ, শম্পা রেজা, জয়রাজ, সুমিত সেনগুপ্তসহ আরও অনেকে।
সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি ও বেহুলা নাচারি-কে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘বেহুলা দরদী’ চলচ্চিত্রেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। চলচ্চিত্রটির গল্পের পেছনেও রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি আকর্ষণীয় যোগসূত্র—২০১৭ সালে শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যরা একসময় ঐতিহ্যবাহী বেহুলা নাচারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
নিজের অভিনয় সম্পর্কে সূচনা শিকদারের দৃষ্টিভঙ্গিও বেশ সহজ ও ইতিবাচক। বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা এবং সেই অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী কাজে প্রয়োগ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর অভিনয়যাত্রায় তাই দেখা যায় নিজেকে ক্রমাগত ভাঙা ও নতুন করে আবিষ্কারের চেষ্টা। বর্তমান সময়েও তিনি টেলিভিশন নাটক ও অন্যান্য অভিনয়কাজে সক্রিয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তাঁকে বিভিন্ন ধারাবাহিক ও নাটকে দেখা গেছে।
মঞ্চের আলো থেকে টেলিভিশনের পর্দা, আর সেখান থেকে চলচ্চিত্রের বড় পর্দা—সূচনা শিকদারের অভিনয়যাত্রা মূলত অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম এবং চরিত্রের বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার গল্প।





