বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত ছয়

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৯ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জাতীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে আরও সহিংস রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন প্রদেশে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আলজাজিরা জানায়, লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে বিক্ষোভ চলাকালে তিনজন নিহত ও অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা যায় এবং গুলির শব্দের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।

আরও পড়ুন: ‘শক্তির সঙ্গে শহীদ সোলাইমানির পথ অনুসরণ করবে ইরান’

এর আগে চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লরদেগান শহরে বিক্ষোভে আরও দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য জানায় ফার্স। সংস্থাটির দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ গভর্নরের কার্যালয়, মসজিদ, সিটি হল ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় পাথর নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।

এদিকে, পশ্চিম ইরানের কুহদাশত শহরে রাতভর বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। নিহত ব্যক্তি বাসিজ বাহিনীর ২১ বছর বয়সী সদস্য ছিলেন। বাসিজ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

আরও পড়ুন: থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে মদের বারে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৪০

রোববার থেকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে দোকানিরা আন্দোলনে নামলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মুখে। এর মধ্যেই জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় ক্ষতি হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

আলজাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, আগের বিক্ষোভগুলোর তুলনায় সরকার এবার কিছুটা সতর্ক কৌশল গ্রহণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জনগণের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ লাঘবে সমাধান খোঁজা হচ্ছে।

এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলো শুরু হয় রাজধানী তেহরানে শান্তিপূর্ণভাবে। পরে মঙ্গলবার অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দিলে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের দাবিকে ‘ন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, ট্রেড ইউনিয়ন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে সরকার সতর্ক করেছে, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।