নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে

ভেনেজুয়েলায় দেলসি রদ্রিগেজ শপথ নিলেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৮ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন বিশেষ অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে এক বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

২০১৮ সাল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৫৬ বছর বয়সী দেলসি রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণের পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, একটি অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের পর দায়িত্ব নিচ্ছি। আমার লক্ষ্য দেশের শান্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ

সংসদীয় অধিবেশনে মাদুরোর ছেলে উপস্থিত ছিলেন এবং পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভ দেখিয়ে মাদুরোর মুক্তি দাবি করেন।

মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। দেলসি রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ম্যানহাটনের আদালতে হাজির মাদুরো বলেন, “আমি এখনও বৈধ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। নিজেকে অপহৃত ও যুদ্ধবন্দী হিসেবে আখ্যায়িত করছি।” তিনি তার বিরুদ্ধে আনা চারটি মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১৭ মার্চ।

আরও পড়ুন: নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

গত শনিবার ভোরে কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর এক বড় মাপের অভিযানের পর মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে রাখা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা জাতিসংঘে এই অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, এটি “অবৈধ সশস্ত্র হামলা।” অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সমর্থন করে বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ভান্ডার একজন অপরাধীর হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সুষ্ঠু পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে।

তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজকে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী না চললে তাকে মাদুরোর চেয়েও “বড় মূল্য” দিতে হতে পারে। তবে দেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে থেকে দেশ উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: বিবিসি