ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল, সতর্ক করলেন তুরস্ক

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৬ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে—এমন স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

শুক্রবার তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, আমি আশা করি তারা ভিন্ন পথ বেছে নেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বিশেষ করে ইসরায়েল ইরানে আঘাত হানার সুযোগ খুঁজছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের ক্ষেত্রেই কি এই মূল্যায়ন প্রযোজ্য জানতে চাইলে ফিদান জানান, ইসরায়েলই মূলত এ ধরনের সুযোগ খোঁজার দিকে বেশি ঝুঁকছে বলে তার ধারণা। তুর্কি সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডে এ তথ্য জানিয়েছে।

তেহরানে সরাসরি উদ্বেগ জানিয়েছে তুরস্ক

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় খামেনি সরানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে

গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম এনটিভিকে এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, “আমি আশা করি তারা ভিন্নপথ খুঁজে পাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশেষ করে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর জন্য সুযোগ খুঁজছে।”

হাকান ফিদান জানান, সাম্প্রতিক ইরান সফরের সময় তিনি দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি আলোচনা করেছেন। “কয়েক দিন আগে আমি যখন তেহরানে গিয়েছিলাম, তখন বন্ধু হিসেবে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের সব কথা বলেছি,” বলেন তিনি। “বন্ধু কখনো কখনো তিক্ত সত্য কথাও বলে,” যোগ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এরদোয়ান–পেজেশকিয়ান ফোনালাপ

ফিদানের এই মন্তব্যের একদিন আগে বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সে সময় এরদোয়ান স্পষ্ট করে বলেন, তুরস্ক ইরানে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং প্রতিবেশী দেশটির শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

এদিকে শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো হামলাকে তেহরান ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক হুমকির মুখে থাকা একটি দেশের সামনে বিকল্প খুবই সীমিত। কেউ যদি ইরানে আক্রমণ চালায়, তাহলে আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এইবার সীমিত, অসীম, সার্জিক্যাল বা যেভাবেই তারা হামলার নাম দিক না কেন—সবকিছুকেই আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখব এবং কঠোরতম প্রতিক্রিয়া জানাব।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে একটি ‘নৌবহর’ পাঠিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ-সমাবেশ ঘটিয়েছিল।

সূত্র: আল-জাজিরা