ইরানের দাবি: একদিনে ভূপাতিত যুদ্ধবিমান-ড্রোন, ‘কালো দিন’ মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধের ৩৫তম দিনে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে তেহরান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের আকাশসীমায় অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দিনটিকে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্ধারিত ফ্লোরিডা সফর বাতিল করে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: গণপরিবহন ভাড়া ফ্রি ঘোষণা পাকিস্তান সরকারের

শনিবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের দাবি, খোমেইন ও জানজান প্রদেশের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসফাহানে দুটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। পাশাপাশি বুশেহর অঞ্চলে একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন ধ্বংসের কথাও জানানো হয়েছে।

প্রথমদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করে যে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি মার্কিন ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে থাকা পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও কো-পাইলট এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আরও পড়ুন: হোয়াইট হাউসে ‘বিশাল সামরিক বাঙ্কার’ নির্মাণ করছে ট্রাম্প প্রশাসন

এছাড়া পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা নজরদারির মুখে পড়ে বিমানটি সাগরে আছড়ে পড়ে। ওই ঘটনায় একজন ক্রু নিখোঁজ এবং অন্যজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ সেনাসদস্যদের উদ্ধারে পাঠানো দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারের ওপরও গুলি চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যেতে পেরেছে মার্কিন বাহিনী।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত আটক করে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।

মার্কিন বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ মার্চ ইরান প্রথমবারের মতো মার্কিন ‘এফ-৩৫’ স্টিলথ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি করেছিল। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের উন্নত ‘মজিদ ইনফ্রারেড’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের উন্নত নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে দেশটির আকাশসীমা প্রতিপক্ষের জন্য ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।