ইরানের ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে সরানোর প্রস্তাব, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি প্রাথমিক কাঠামোয় তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পারস্পরিক সম্মতিতে তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো এবং প্রাথমিক সমঝোতার সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ইংলিশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কাঠামোয় ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের বিষয়টি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চীনকে নিশ্চয়তাদাতা পক্ষ হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনা ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল মিত্রদের
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হলে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও যাচাইব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও রয়েছে। কোনো পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব করলে বা শর্ত লঙ্ঘন করলে মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতা পক্ষগুলোর সমন্বয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রাখার কথা বলা হয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা, মার্কিন সেনাদের গণকবরের মহড়া
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি শুক্রবার সকালে তেহরানে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাদের এ সফর হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরির প্রস্তাবসংবলিত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠি ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কাতারের দূতেরা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা চলছে এবং ইরান কথা বলতে চায়। দেশটি আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটি তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দিতে পারছে না এবং বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি একটি যুদ্ধ, তবে প্রচলিত ধরনের যুদ্ধ নয়; আমরা সেখানে সাত মাস ধরে রয়েছি।’





