মানসিক চাপ থেকে মাথাব্যথা? কমাতে পারেন ১১ সহজ উপায়ে
সকালের ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ মাথা দপদপ করছে? এর পেছনে মানসিক চাপের ভূমিকা থাকতে পারে। টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো স্ট্রেস। শুধু তা-ই নয়, মানসিক চাপ অন্যান্য ধরনের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে কিংবা আগে থেকেই থাকা মাথাব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে মাথাব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা মিলতে পারে।
১. আরামদায়ক কাজের জন্য সময় রাখুন
আরও পড়ুন: ছোট কারণেই রাগ বাড়ে? নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই ১০ উপায়ে
মানসিক চাপ কমাতে গান শোনা, নাচ, খেলাধুলা, বই পড়া কিংবা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানোর মতো আনন্দদায়ক কাজ করতে পারেন। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হলেও নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন।
২. কাজের তালিকা ছোট করুন
আরও পড়ুন: খাবারের আগে না পরে, ফল খাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
একসঙ্গে অতিরিক্ত কাজের চাপ না নিয়ে অগ্রাধিকার ঠিক করুন। কোন কাজটি এখনই করা দরকার, কোনটি পরে করা যাবে এবং কোন কাজটি না করলেও চলে—তা নির্ধারণ করুন।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং মাথাব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। তবে হঠাৎ করে খুব তীব্র ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে শরীরকে প্রস্তুত করা ভালো। আকস্মিক অতিরিক্ত পরিশ্রমে কারও কারও মাথাব্যথা হতে পারে।
৪. স্বাস্থ্যকর খাবার খান
ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন। সুষম খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি জোগাতে এবং দৈনন্দিন চাপ সামলাতে সহায়তা করতে পারে।
৫. পর্যাপ্ত ঘুমান
মানসিক চাপ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আবার পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চাপ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা নিন
কঠিন সময়ে কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সাহায্য নিন। সমস্যাগুলো সামলাতে একজন থেরাপিস্টের সঙ্গেও কথা বলা যেতে পারে।
৭. সময় ব্যবস্থাপনা করুন
প্রতিদিনের কাজের তালিকা হালনাগাদ করুন। বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন এবং একসঙ্গে অনেক কাজ করার পরিবর্তে একটি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে কিছু দায়িত্ব অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিন।
৮. আগেভাগে প্রস্তুতি নিন
দিনের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো আগে থেকে অনুমান করে পরিকল্পনা করুন। তবে পরিকল্পনা খুব কঠোর না রেখে নমনীয় রাখুন। এতে হঠাৎ কোনো সমস্যা বা মাথাব্যথা শুরু হলে পরিস্থিতির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
৯. নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয় ছেড়ে দিন
যেসব বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলো নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করার চেষ্টা করুন। নেতিবাচক চিন্তাকে ইতিবাচকভাবে দেখার অভ্যাস করুন। প্রয়োজন হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) নিয়েও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।
১০. কাজের মাঝে বিরতি নিন
অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। ধীরগতির স্ট্রেচিং, অল্প সময় হাঁটা কিংবা শান্ত কোনো জায়গায় কিছুক্ষণ সময় কাটানো মনকে স্বস্তি দিতে পারে। এতে কাজে ফেরার পর মনোযোগও বাড়তে পারে।
১১. হাসুন ও আনন্দের সময় কাটান
হাসি মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। মজার সিনেমা দেখা, বই পড়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের সময় কাটানোর মতো কাজ মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন
প্রতিদিনের একই রুটিনের বাইরে মাঝেমধ্যে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। ছুটি বা সপ্তাহান্তে ছোট ভ্রমণ কিংবা পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়া মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে।
তবে মাথাব্যথা যদি বারবার হয়, খুব তীব্র হয় বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।





