সংসদ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র: ডেপুটি স্পিকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ন, ২৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩০ অপরাহ্ন, ২৯ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সংসদ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র।

রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করে তিনি এ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা সভা

বক্তব্যে তিনি চলমান সংসদকে ‘মজলুমদের সংসদ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভাষণের শুরুতে তিনি সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে বললেন মন্ত্রী

তিনি বিশেষভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি এবং এই সংসদ অসংখ্য ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সরকার ও দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি সংসদ সদস্যের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি সঠিক থাকলে সহযোগিতা করবেন, ভুল করলে সংশোধন করবেন”—এমন মনোভাব নিয়েই তিনি দায়িত্ব পালন করতে চান।

বিখ্যাত আইনবিদ এভি ডাইসি-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—সরকার হোক বা জনগণ, সবাইকে আইনের আওতায় থাকতে হবে। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতান্ত্রিক চর্চা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে তা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ, আর লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।