কমিশনের সিদ্ধান্তের চেয়ে তাদের প্রভাবেই চলত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম

মোমেন কমিশনে দুদকের তিন মহাপরিচালক ঘিরে বিতর্ক

Sadek Ali
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৭ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেনের ঘনিষ্ঠ তিন মহাপরিচালকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম। অভিযোগ আছে এই তিন মহাপরিচালকের প্রভাবেই  মোমেন কমিশনের সময় অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক কর্মকান্ডে অনেকেই হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধানের নামে হয়রানি মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় মহল কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে অথবা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলকভাবে দুদককে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পলাতক  ফ্যাসিস্ট আ.লীগ সরকারের আশীর্বাদ পাওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পদায়িত তিন মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক পক্ষপাত, পদোন্নতিতে অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি এবং প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ এনে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের  জন্য দুদকে আবেদন করেছে ভুক্তভোগীরা। 

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভিন্ন সূত্র জানায় ডঃ মোমেন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনুসন্ধান  তদন্ত অভিযোগ পত্র অনুমোদন ও অন্যান্য কার্যক্রমে কমিশনের সিদ্ধান্তের চেয়ে তার সহযোগী মহাপরিচালকদের  প্রভাবিত হয়ে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে দুদক কমিশনের বিধি বিধান ছাড়াই অনুসন্ধান তদন্ত ও গ্রেফতারের কার্যক্রমে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও প্রভাবিত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হয়েছে দুদক আইন না মেনেই। এমনকি দন্ড প্রাপ্ত বা অভিযোগ পত্র ছাড়াই অনেকের বিরুদ্ধে ইন্টার ফুলে গ্রেপ্তারের আবেদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মহাপরিচালক একের ভিতর তিন আব্দুল্লাহ আল জাহিদ মুখ্য ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ মার্চ দুদক সচিব বরাবর দেয়া একটি লিখিত আবেদনে মহাপরিচালক (আইসিটি, গোয়েন্দা ও যাবাক) আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, মহাপরিচালক (প্রশাসন) আবু হেনা মোস্তফা জামান এবং মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) মোকাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়। আবেদনকারী হিসেবে হুমায়ূন কবির নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেনের সময়ে এই তিন কর্মকর্তা বিশেষ প্রভাব ও সুবিধা পেয়েছিলেন এবং সংঘবদ্ধভাবে ব্যক্তির স্বার্থ বিবেচনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন।

আরও পড়ুন: স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল জাহিদ সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি পেয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে তাকে মহাপরিচালক করা হয়। পরে তিনি আইসিটি, গোয়েন্দা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও প্রশিক্ষণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শাখার অতিরিক্ত দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের নামে মনগড়া তথ্য ব্যবহার করে সাময়িক বরখাস্ত ও বদলির ব্যবস্থা করতেন। এ কাজে কয়েকজন অধস্তন কর্মকর্তার সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এসব কর্মকাণ্ডের ফলে কমিশনের ভেতরে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এবং অনেক কর্মকর্তা প্রশাসনিক চাপ নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বলা হয়, ড. আব্দুল মোমেনের কমিশন চেয়ারম্যান থাকাকালে গ্রেডেশন লিস্টে এক নম্বরে থাকা পরিচালক আব্দুল করিমকে ডিঙ্গিয়ে জাহিদ হয়ে যান মহাপরিচালক। পরিচালক (অবঃ) আব্দুল করিমকে পদোন্নতি না দেওয়ার অন্যতম কারণ তার গ্রামের বাড়ী বগুড়া জেলায। অপরপক্ষে সদ্য বিদায়ী চেযারম্যান আব্দুল মোমেন এর পাশের উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল জাহিদকে নিয়মভঙ্গ করে পদোন্নতি দেয়া নিয়ে অপর দুই কমিশনারের কাছে পদোন্নতি বঞ্চিত আব্দুল করিম দেখা করলে তারা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদায়ন ২ মাস আটকে রাখেন। কিন্ত মোমেন  পোষ্য পুত্রখ্যাত আব্দুল্লাহ আল জাহিদ মহাপরিচালক প্রভাব বিস্তার করে ওই পদে অবৈধভাবে পদোন্নতি নিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এর বাইরেও জাহিদ দুদকের মহাপরিচালক আইসিটি, যাবাক ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেন। পদোন্নতি পেয়ে মহাপরিচালক হওয়ার পরেও দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের  কর্মকর্তাদেরকে দমন-পীড়নের জন্য মহাপরিচালকের নিচের পদবী পরিচালক (গোফেদা) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থী এবং প্রশিক্ষক নির্বাচনে আওয়ামীপন্থীদেরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। এক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ দুঃশাসনের সময়ে বঞ্চিত মেধাবীদেরকে আরও বেশি বঞ্চিত করা হতো। অফিসে তার প্রতিপক্ষ ধারণা করে নাজেহাল করার জন্য কৌশলে সিস্টেম এনালিস্ট রাজীব আহসানকে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করে। তার জায়গায় জাহিদের একনিষ্ঠ চেলা সহযোগী দুদকে ছোট জাহিদ হিসেবে খ্যাত উপপরিচালক তানজীর হাসিব সরকারকে বসিয়ে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদেরকে দমন-পীড়নের জন্য অবৈধভাবে তাদের মোবাইল ট্র্যাকিং করে কাল্পনিক ও মনগড়া অভিযোগ বানিয়ে সেটিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদন হিসেবে দেখিয়ে নির্দিষ্ট  কর্মকর্তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ঢাকার বাইরে বদলি করতেন। একাজে তাকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করতেন দুদকে জাহিদের একনিষ্ঠ চেলা হিসেবে পরিচিত উপপরিচালক সিফাতউদ্দীন (উপপরিচালক গোয়েন্দা) এবং ২০২২ ব্যাচের কিছু সহকারী পরিচালক। এছাড়াও মোমেন কমিশনের কার্যক্রমের সময় দুদক বিধি বিধান লঙ্ঘন করে এই মহাপরিচালকের প্রভাবে যে কোন সময় প্রতিপক্ষ বা কোন মহলের চাহিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের নামে দুর্নীতি অনুসন্ধান তদন্তের ফাইল খোলার অভিযোগ উঠেছে।  মহাপরিচালক ওদের একাধিক দায়িত্ব পালন করলেও ব্যক্তি স্বার্থ ও প্রতিপক্ষকে হয়রানির জন্য তার অধস্তন পরিচালক গোয়েন্দার চেয়ারম্যানের প্রভাবে ধরে রেখেছিল। এখনো এই পদে বহাল থেকে যে কাউকে হয়রানি করার মত হুমকি-ধমকি বিদ্যমান আছে। 

আরও পড়ুন: জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

অপর মহাপরিচালক (প্রশাসন) আবু হেনা মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক পক্ষপাত ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, তিনি অতীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে দুদকে যোগ দিয়ে একই ধারার কর্মকর্তাদের সুবিধা দিয়েছেন। আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনিক বদলি, পদায়ন ও দাপ্তরিক সিদ্ধান্তে তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, দূরবর্তী এলাকায় বদলির ভয় দেখানো এবং দুদকের অভ্যন্তরে অঘোষিত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে দুদকের বিভিন্ন কক্ষ সংস্কার ও স্থানান্তর, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম এবং সম্পদের উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার এর সময়ে ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশে আবু হেনা মোস্তফা জামান প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। দুদকে ডেপুটেশনে আসার পূর্বে, তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অতীব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত থাকাকালীন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের পছন্দের ও খাস লোক হিসাবে পরিচিত  ছিলেন। সে কারণে মাত্র ৪ বছর সময়ে প্রায় ৩৪ বার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পান, যা ছিল নজিরবিহীন। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতনের কিছুদিন পর দুর্নীতি দমন কমিশনের মহা-পরিচালক (প্রশাসন) এর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। দুদকে যোগদানের পর তিনি আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের ছায়ার মত আগলে রেখেছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি ও ভিন্ন মতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানান ভাবে হয়রানি ও সুকৌশলে হয়রানিমূলক বদলিসহ অফিসিয়ালভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছেন। তার সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাপ্তরিক কাজে দেখা করতে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন। দুদকে তিনি অঘোষিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। এদিকে, মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) মোকাম্মেল হোসেনকে ঘিরে অভিযোগ আরও ব্যাপক। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি অতীতে বিভিন্ন সরকারি পদে দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগ সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে দুদকে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেছেন, বিএনপির রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও মামলার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ আগ্রহ দেখাতেন। এমনকি কিছু মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রমেও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু তদন্তে তিনি অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও  এ অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং নির্বাচনবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।দুদকের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগ:

দুর্নীতি দমন কমিশন সচিব বরাবরের লিখিত অভিযোগপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- দুদকের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজন ও আনুগত্যের প্রশ্ন। আবেদনকারী দাবি করেছেন, বিগত কয়েক বছরে কমিশনের ভেতরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। যদি এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তা সাংবিধানিক ও স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা।

দুদকের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশনের ভেতরে পদোন্নতি, বদলি ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফসলও হতে পারে। তাদের মতে, অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তবে প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো যেহেতু কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, তাই নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে অভিযোগের সত্যতা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।