নয়াদিল্লিতে বিজিবি–বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনে সিদ্ধান্ত

বেআইনি পুশ-ইন বন্ধ সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থাসহ ৬সিদ্ধান্ত

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৮ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনে বিশেষভাবে বেআইনি ‘পুশ-ইন’ বন্ধ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেছে।

গত ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীন কুমার, আইপিএস।

আরও পড়ুন: কারা মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত আইজি পদে দুই সেনা কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দুই দেশ আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে।

সীমান্ত হত্যা ও সহিংসতা রোধে যৌথ উদ্যোগ

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ সীমান্তে যৌথ টহল বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হত্যা ও হামলার ঘটনায় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

বেআইনি পুশ-ইন বন্ধে জোর

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানানো হয়। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতির পরিপন্থী। তিনি অবিলম্বে পুশ-ইন বন্ধ এবং যাচাইকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান। বিএসএফও জাতীয়তা যাচাইকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেয়।

মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে সমন্বয়

সম্মেলনে ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক পাচারের বিষয়ে উদ্বেগ জানায় বিজিবি। দুই দেশই মাদক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে গবাদিপশু চোরাচালান, অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়।

সীমান্ত অবকাঠামো ও ১৫০ গজ নিয়ম

আলোচনায় সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা বেড়া ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও আলোচনা হয়। বিজিবি অভিযোগ করে, কিছু ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি ছাড়া নির্মাণের চেষ্টা হয়েছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ বিদ্যমান প্রটোকল ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমন্বয় করে করার বিষয়ে সম্মত হয়।

নদীর পানি, সীমান্ত পিলার ও তথ্য বিভ্রান্তি নিয়েও আলোচনা

সম্মেলনে কুশিয়ারা নদীর পানি উত্তোলন, নদীতীর সংরক্ষণ, সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও অনির্ধারিত সীমান্ত চিহ্নিতকরণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো রোধেও দুই দেশ সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।

সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।