মুয়াজ্জিনের জন্য যে সুসংবাদ দিয়েছেন মহানবী (সা.)
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য আহ্বান হলো আজান। আজান দেওয়ার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মেলে। কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিন অত্যন্ত সম্মানিত হবে।
মানুষ, জিন ও পৃথিবীর সব বস্তু কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের জন্য কল্যাণের সাক্ষ্য দেবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যেকোনো মানুষ ও জিন অথবা যেকোনো বস্তু মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ শুনবে সে কিয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। (বুখারি, হাদিস : ৬০৯)
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও স্মৃতির প্রেক্ষাপটে স্থাপত্যচিন্তা: কাশেফ চৌধুরীর নতুন মনোগ্রাফ উন্মোচন
আজান শুনে যত মানুষ সালাত আদায় করবে তত মানুষের সালাতের সওয়াব মুয়াজ্জিন পাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, মুয়াজ্জিনের কণ্ঠের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হবে এবং (কিয়ামতের দিন) তার কল্যাণের জন্য প্রত্যেক সজীব ও নির্জীব বস্তু সাক্ষ্য দেবে এবং এই আজান শুনে যত লোক সালাত আদায় করবে, সবার সমপরিমাণ সওয়াব মুয়াজ্জিনের হবে।
আর যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের জন্য উপস্থিত হবে, তার জন্য ২৫ সালাতের নেকি লেখা হবে এবং তার দুই সালাতের মধ্যকার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৫, নাসাঈ, হাদিস : ৬৬৭)
আরও পড়ুন: অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় ২০২৫ স্বাগতম ২০২৬, নতুন বছরে পুনর্জাগরণের অঙ্গীকার
আজানের বিনিময়ে জান্নাত লাভের প্রতিশ্রুতি এসেছে হাদিস শরিফে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ১২ বছর আজান দেয়, তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার প্রত্যেক আজানের বিনিময়ে ৬০ নেকি এবং ইকামতের বিনিময়ে ৩০ নেকি অতিরিক্ত লেখা হয়। (ইবন মাজাহ, হাদিস : ৬০০)
যারা আজান দেয় না, তারা মুয়াজ্জিনের সমান ফজিলত অর্জন করতে চাইলে আজানের জবাব দিতে হবে। তাহলে তারাও মুয়াজ্জিনের সমান সওয়াব পাবে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! মুয়াজ্জিনরা আমাদের চেয়ে বেশি মর্যাদা লাভ করছেন। রাসুল (সা.) বলেন, তুমিও বলো যেরূপ মুয়াজ্জিন বলে অর্থাৎ আজানের জবাব দাও। আর যখন আজানের জবাব দেওয়া শেষ হবে তখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা (আজানের পরের দোয়া পাঠ) করো, তাহলে তোমাকেও সেই প্রতিদান দেওয়া হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৪)
মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।





