রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে : তারেক রহমান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি আমার এবং বিএনপির পূর্ণ আস্থা ও সম্মান রয়েছে।’’ বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় ১৬ নম্বর ধারায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘‘দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করা হবে।’’

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব, এবং জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে।’’

আরও পড়ুন: হামলায় আহত নুরের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া

এ সময় তারেক রহমান ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শাসনেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি জনগণের সমর্থন চাইবে, যাতে একটিসুযোগ পেলে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করা যায়।’’

তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমান ১৯৭৬-৭৭ সালে ময়মনসিংহের সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিরিশিরি কালচার একাডেমি প্রতিষ্ঠা, গারো জাতিগোষ্ঠীর জন্য ট্রাইব্যুনাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি—এসব তারই অবদান।’’

আরও পড়ুন: সন্ধ্যার পর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

এছাড়া, জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল গঠনের উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘২০০৭ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আগ্রহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়, যার ফলে আজকের এই সমাবেশ।’’ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে সকল জাতিগোষ্ঠী একসঙ্গে মিলে দেশে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।’’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘একটি ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট শাসনের পরে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। এই বাংলাদেশে আমরা সবাই সমান অধিকার পেতে চাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু শব্দটি ভুল, আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং সবার অধিকার সমান।’’

ময়মনসিংহের এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতারা, including মৃগেন হাগিদগ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, এবং বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে ১৪টি জেলার ৩৪টি জাতিগোষ্ঠীর আদিবাসি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।