‘খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জাতি বিনির্মাণে ব্যবহার করতে চায়’
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোককে শক্তিতে পরিণত করে জাতি বিনির্মাণের কাজে ব্যবহার করতে চায় বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জিয়া উদ্যান উন্মুক্ত: খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে অমর হয়ে আছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জন করেছেন।”
বেগম জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীতে অসংখ্য মানুষ সরাসরি জানাজায় অংশ নিয়েছেন, আর যারা আসতে পারেননি তারা গায়েবানা জানাজায় শরিক হয়েছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জানাজার একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কত মানুষ উপস্থিত ছিলেন তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, তবে ভবিষ্যতে অনুমানভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় : রাজনাথ
বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য নিরলস সংগ্রামের মাধ্যমে একজন সাধারণ গৃহিণী কীভাবে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন—বেগম খালেদা জিয়া তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে তিনি নিজের জীবন, সন্তান ও পরিবারকে উৎসর্গ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি বেগম জিয়ার ভালোবাসা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কোনো তুলনা নেই। তিনি সবকিছু হারিয়েছেন, কিন্তু যে উচ্চতায় তিনি পৌঁছেছেন, সেই উচ্চতায় পৃথিবীতে খুব কম মানুষের নামই লেখা আছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শকে ধারণ করে বিএনপি সামনের দিনে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চেষ্টা করবে। এটাই জাতির প্রত্যাশা। তিনি কেবল বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী—দেশের মানুষ তাকে সেই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।”
দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা আজ আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সীমিত সামর্থ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কতটুকু সফল হওয়া যাবে, তা ভবিষ্যৎই বলবে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বেগম জিয়ার শোককে আমরা শক্তিতে রূপ দিতে চাই, কিন্তু এটিকে সংকীর্ণভাবে দলীয় নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করার মানসিকতা আমাদের নেই। এই শোককে আমরা জাতি বিনির্মাণের কাজে লাগাতে চাই।”
মনোনয়ন বিষয়ে তিনি জানান, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া আর শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই, তার মনোনয়ন স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হবে। বিকল্প প্রার্থীরা থাকায় মনোনয়ন বাছাইয়ের মাধ্যমে তারাই চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন।
নির্বাচন পেছানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “প্রার্থী বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে নির্বাচন স্থগিতের আইনি জটিলতা তৈরি হতো। কিন্তু বাছাইয়ের আগেই তার মৃত্যু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।”
মায়ের শোকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভেঙে পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোবলের সঙ্গেই এগোতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।”





