আগামী নির্বাচন সহজ নয়, একটি ভোটও নষ্ট করা যাবে না: সালাম
আগামী জাতীয় নির্বাচন কোনোভাবেই সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী ঢাকা ১৭ আসন বিএনপি'র নির্বাচনী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজেপির কর্মীদের সাথে একমত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: গুম হওয়া স্বজনদের কাঁন্না ও আর্তনাদ ফুঁপিয়ে কাঁদলেন তারেক রহমান
সালাম বলেন, অনেকে মনে করছেন বিএনপি এবং তারেক রহমান সহজেই বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই নির্বাচন ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই ষড়যন্ত্র শুধু বিএনপি বা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, দেশে এখনো জনগণ পুরোপুরি গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পায়নি। ভোটের অধিকার এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। ফলে ভোটের আগের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভোটের পরেও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। একটি দুর্বল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান-সারাহ কুক বৈঠকে যেসব বিষয়ে কথা হলো
আবদুস সালাম বলেন, তারা চায় বিএনপি যেন শক্তিশালী সরকার গঠন করতে না পারে। কারণ দুর্বল সরকার শক্ত অবস্থান নিতে পারে না। অথচ গত ১৭-১৮ বছরে দেশের যে সর্বাত্মক ক্ষতি হয়েছে তা মেরামত, সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য একটি শক্তিশালী সরকার অপরিহার্য।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান এতে তিনি ও দলের নেতাকর্মীরা বিশ্বাসী। “তারেক রহমান যদি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন, তাহলে দেশের নেতৃত্ব আরও দৃঢ় ও কার্যকর হবে। কিন্তু কোনোভাবে কম ভোটে জয়ী হলে সেই শক্ত অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি ভোটের মূল্য অপরিসীম। ভোটারদের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের দায়িত্ব আরও বেশি। “আপনারা শুধু ভোটার নন, আপনারা কর্মী। আপনাদের জোটের প্রার্থী তারেক রহমান। তাই প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও কেন্দ্রভিত্তিক সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি পোলিং এজেন্ট নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “প্রতিটি সেন্টারে পোলিং এজেন্ট থাকতে হবে। অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও গুজবের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপির অতীত ভূমিকার কথা স্মরণ করে আবদুস সালাম বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটকালে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং এখন তারেক রহমান সবাই জনগণের বিশ্বাসের প্রতীক।
তিনি বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। “ভোট বিক্রি করলে মানুষ তার ঈমান বিক্রি করে। একদিনের লোভে ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা যায় না। জনগণ এই সত্য বুঝে গেছে।
বস্তিবাসী ও সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভিক্ষা নয় অধিকার হিসেবে বাসস্থান, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। “এই উন্নয়ন কোনো দয়া নয়, এটা জনগণের ন্যায্য অধিকার।
নারী ভোটারদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “মহিলা ভোটই নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তাই মা-বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে কথা বলতে হবে।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন। একটি ভোটও নষ্ট করা যাবে না। ২২ তারিখ থেকে শুরু হওয়া প্রচারণায় সবাইকে মাঠে নামতে হবে। দেশ ও জনগণকে বাঁচাতে হলে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার সহ বিএনপি ও বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।





