ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, তারুণ্যের চোখে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও উন্নত রাষ্ট্র; যেখানে সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে।

‘তারুণ্যের চোখে ঢাকা-১১: আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কী ভাবছে?’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. রফিকুল ইসলাম

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, তরুণ সমাজ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা থাকবে এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, উদ্ভাবনী চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, তরুণ প্রজন্ম দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত, জ্ঞানভিত্তিক এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়তে চায়। তারা এমন একটি দেশ কল্পনা করে, যা বিশ্বমঞ্চে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তরুণদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করতে হবে। আর এই সুযোগ তৈরির জন্য বিএনপি বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

তিনি আরও বলেন, তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের শক্তিকে সঠিক পথে কাজে লাগাতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে। সে লক্ষ্যেই আগামী দিনে ঢাকা-১১ আসনকে একটি মডেল এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, আগামীতে ঢাকা-১১ আসনে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণদের জন্য থাকবে বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ। এজন্য একটি ‘বিজনেস ক্লাউড’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যেখানে তরুণ উদ্যোক্তারা নিজেদের মেধা, উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক চিন্তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপন করতে পারবে।

বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক বলেন, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করতে হবে। সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তরুণ সমাজ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

তরুণদের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত রাখতে চাইলে খেলাধুলা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা-১১ আসনের মাটি ও গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, তরুণদের স্বপ্নই আগামীর বাংলাদেশের পথনির্দেশক। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।