তারা বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার বিরোধিতা’ করেছিল: ফখরুল

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে যারা বর্তমানে ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন, তারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন—এ কথা ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে গণসংযোগকালে তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের কারণে একাত্তরে মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছিল এবং বহু বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: শেখ মুজিব রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার ভয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: ডা. আউয়াল

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আজ দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসছে, তারা কিন্তু সেদিন এই স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। আপনারা কি ভুলে গেছেন—ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছিল, লুটতরাজ হয়েছিল?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মহাসচিব। ওই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

আরও পড়ুন: ‘ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস’: ডা. শফিকুর রহমান

গণসংযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের কোনো ভয় বা আতঙ্ক থাকবে না। তিনি বলেন, এই দেশ যেমন মুসলমানদের, ঠিক তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়েরও। সবার অধিকার সমান।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে—ধানের শীষে ভোট দিলে ভবিষ্যতে তাদের ক্ষতি হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা অতীতেও আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একাত্তরে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল। আমরা দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি, যাবও না। আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, বলেন তিনি।

ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা স্বাধীনতার পক্ষে, আইনশৃঙ্খলা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা বলছে—তাদের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

এ সময় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য দেন।