নকল ইনজেকশনে কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ফার্মেসীর মালিককে জরিমানা

Sanchoy Biswas
গোলাম ফারুক, পাবনা
প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ন, ২৩ মে ২০২৫ | আপডেট: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার সুজানগরে নকল ইনজেকশন পুশ করায় নিভে গেল এক কলেজছাত্রীর প্রাণ। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নাম ব্যবহার করে নকল ইনজেকশন বিক্রির অভিযোগে সাঁথিয়ার কাশিনাথপুরের কাওসার ফার্মেসিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মৃত্যুবরণকারী কলেজছাত্রী রিপা (২৩) সুজানগর উপজেলার দুলাই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে এবং এডওয়ার্ড কলেজের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা বদলালেও বদলায়নি সিটিজেন চার্টার: নেই কার্যকর মোবাইল-ইমেইল

জানা যায়, রিপা টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. ইলিয়াস হোসেন তাকে স্কয়ার কোম্পানির ‘সেফট্রিয়োন ২ গ্রাম আই.ভি’ ইনজেকশন পুশ করার পরামর্শ দেন। ওই পরামর্শ অনুযায়ী ২০ মে দুলাই বাজারের ‘মেডিসিন পয়েন্ট’ ফার্মেসি থেকে ইনজেকশনটি কেনা হয়। সেটির ব্যাচ নম্বর ছিল ৭ ডিজিটের।

পরদিন ২১ মে সকালে দ্বিতীয়বার ইনজেকশন পুশ করার পরপরই রিপা মারা যান। এরপর তদন্তে দেখা যায়, দ্বিতীয় ইনজেকশনের ব্যাচ নম্বর ৮ ডিজিটের, যা স্কয়ার কোম্পানির মূল ব্যাচ নম্বরের সঙ্গে মেলে না। এতে নকল ইনজেকশনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আরও পড়ুন: আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসে নিরাপত্তা প্রহরীর নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক কাজ

‘মেডিসিন পয়েন্ট’-এর বিক্রয় প্রতিনিধি মৃদুল জানান, ইনজেকশনটি স্কয়ার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) হাবিবুর রহমান সরবরাহ করেছিলেন, যিনি সেটি কাওসার ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করেন।

ঘটনার পর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ২২ মে বিষয়টি পাবনা জেলার ড্রাগ সুপার রোকনুজ্জামানকে জানায়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্নার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কাওসার ফার্মেসিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, কাওসার ফার্মেসি নিয়মিতভাবেই কম দামে কোম্পানির বাইরের বিভিন্ন লটে ওষুধ সংগ্রহ করে এবং তা উচ্চমূল্যে বিক্রি করে থাকে।

রিপার কাকা ইমরান খান বলেন, মাত্র জরিমানা নয়, এমন প্রতারণামূলক ব্যবসা বন্ধ করা জরুরি। আমরা কাওসার ফার্মেসির লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাই।

এদিকে স্কয়ার কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, মৃত্যুর কারণ যে ইনজেকশনটি, সেটি আমাদের তৈরি নয়। আমাদের কোম্পানির নাম ও ডিজাইন নকল করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

পাবনা ড্রাগ সুপার রোকনুজ্জামান বলেন, ফার্মেসির মালিককে জরিমানা করা হয়েছে এবং স্কয়ারের এসআর হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ছাত্রীর পরিবার আইনি সহায়তা নিতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা কাওসার ফার্মেসিতে অভিযান চালাই। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সর্বোচ্চ জরিমানা আদায় করা হয়েছে।