বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৩ নারীসহ গ্রেফতার-৭

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ৩ ব্যক্তিকে একটি ফ্ল্যাটে জিম্মি করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৩ নারী সদস্যসহ ০৭ জনকে (গোয়েন্দা পুলিশ) ডিবি পুলিশ বিভাগ গ্রেফতার করেছে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, গত বৃহস্পতিবার (২৮শে আগস্ট) দিবাগত রাতে শহরের চকসূত্রাপুর শহীদ বিলু সড়কের রহমান ভিলার ৫ তলা ভবনের দক্ষিণ ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। উক্ত গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগ (ডিবি) এর একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করে এবং আলোচিত কারাবন্দি তুফান সরকার ও ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক পৌর কাউন্সিলর মতিন সরকারের ছোট ভাইসহ হানি ট্র্যাপ চক্রের ৩ নারী সদস্যসহ ০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরা তালায় ঘেরের আইলে সবজি চাষ, কৃষিতে সম্ভাবনার হাতছানি
উক্ত হানি ট্র্যাপিং চক্রের ফাঁদে পড়ে এক ব্যক্তি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়। চক্রটি প্রথমে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে নিজেদের বাড়িতে ডেকে নেয়। এরপর সেখানে তাকে উলঙ্গ করে ছবি তুলে এবং মারধর করে নগ্ন ছবি তুলে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে জেলা গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এসময় হানি ট্র্যাপিং চক্রের ০৩ জন নারী ও ০৪ জন পুরুষ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
পুলিশের মতে, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় ধানের শীষের কান্ডারী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে এইচ. এম. রহমত উল্লাহ পলাশ
উক্ত গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা চেলোপাড়ার মহসিন কাজী সিজান (২৫), চকসূত্রাপুর চামড়া পট্টির মতিন সরকারের ভাই ওমর সরকার (৩৫), কেয়া বেগম (৩৩), আফসানা মিমি (২৪), কামরুন্নাহার অধোরা (২২), এনামুল হোসেন ওরফে রায়হান (২৭) ও নয়ন হোসেন (৩৫)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে জিম্মিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় ৫ হাজার ১শ টাকা ও ০২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
এদের মধ্যে মহসিন কাজী সিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা আইন, চুরি ও মারামারিসহ ৬টি মামলা, এনামুল হোসেন রায়হানের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও মারামারিসহ ৬টি মামলা, আলোচিত ওমর সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, মারামারি ও মাদকসহ ৬টি মামলা এবং নয়ন হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি মাদক দ্রব্য মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।