শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাত: ৫ লাখ মুসল্লির জনসমুদ্রে পরিণত ময়দান

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ন, ২১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৩ অপরাহ্ন, ২১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের জামাতে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে মুসল্লিরা দলে দলে শোলাকিয়ায় আসেন। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করেন।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের খাবার খেয়ে যাচাই করেন

সকাল হতেই ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এবং নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে ২টি করে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে ঈদ আনন্দে মুখর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জমজমাট বিনোদন মেলা

এবারের জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

ঈদ জামাত শেষে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া গর্বের বিষয়। তিনি জানান, শোলাকিয়া ঈদগাহের সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য সরকারিভাবে প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং মুসল্লিদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠে অবস্থান নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সুশৃঙ্খল জনসমাবেশের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতি বছরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।