রায়পুরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ন, ০১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-এ এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে সশরীরে ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দৈনিক যুগান্তরের রায়পুর প্রতিনিধি ও রায়পুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাবারক হোসেন আজাদ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পৌর আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন ভুঁইয়া ওরফে দুলাল ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুলাল ভুঁইয়া (৬৭) তার বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। সম্প্রতি তার কিছু অডিও ও ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক রাখার দায়ে জরিমানা আদায়

কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই ঘটনার পেছনে সাংবাদিক তাবারক হোসেন আজাদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ পোষণ করেন দুলাল। এর জের ধরেই নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এবং একাধিক পোস্টের মাধ্যমে তাবারক হোসেন আজাদকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ, মারধর এবং শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক তাবারক হোসেন আজাদ বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় ধরে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে আসছি। দুলাল ভুঁইয়ার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কে বা কারা ভাইরাল করেছে সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি যেভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, তাতে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি জিডি করেছি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় ডোবার পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু

হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুল আমিন ভুঁইয়া ওরফে দুলাল ভুঁইয়া দম্ভোক্তি করে বলেন, “ফেক আইডি দিয়ে আমার সম্মানহানি করা হচ্ছে। আমার ধারণা, এর পেছনে আজাদ জড়িত। তাই আমি পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি।” তবে প্রকাশ্যে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া আইনের লঙ্ঘন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রায়পুর থানা পুলিশ। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান, “অনলাইনে প্রাপ্ত জিডির আবেদনটি আমরা গ্রহণ করেছি। একজন সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত)। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুততম সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের মতো একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় রায়পুরের সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় না আনা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।