উধাও পর্যটকদের বসার লোহার ঢালাই ও কোম্পানির অফিসের মালামাল
কমলনগর মেঘনা বেড়িবাঁধে চুরির হিড়িক, আতঙ্কে এলাকাবাসী
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী মাতাব্বর হাট বেড়িবাঁধ এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী ভাঙন কবলিত এ অঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরির পর থেকেই সেখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়লেও, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতাব্বর হাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে পর্যটকদের বসার সুবিধার্থে বেড়িবাঁধের ওপর যেসব লোহার ঢালাই সম্বলিত আসন (বসার স্থান) স্থাপন করা হয়েছিল, সেখান থেকে একটি লোহার ঢালাই চুরি হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এর কিছুদিন আগেই বেড়িবাঁধের পাশে থাকা ওয়েস্টিন কোম্পানির অফিস থেকেও চুরির ঘটনা ঘটে। ওই অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটে নেয় চোরচক্র।
আরও পড়ুন: শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এনসিপি নেতাকে জুতাপেটা
সরেজমিনে জানা যায়, বেড়িবাঁধের সৌন্দর্য বর্ধন এবং পর্যটকদের বসার এই লোহার সরঞ্জামগুলো চুরির ফলে একদিকে যেমন সরকারের উন্নয়ন ও পর্যটন খাতের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সংরক্ষিত এলাকা থেকে দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধারে এমন চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নদী ভাঙনের সাথে লড়াই করে আমরা কোনোমতে টিকে আছি। এখন আবার যোগ হয়েছে চোরের আতঙ্ক। পর্যটকদের বসার লোহার জিনিসপত্র থেকে শুরু করে কোম্পানির অফিস পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। এভাবে যদি একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটতে থাকে, তবে আমরা সাধারণ মানুষ এখানে কীভাবে শান্তিতে বসবাস করব?"
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে: ভূমিমন্ত্রী
তারা আরও জানান, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চোরচক্র দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় স্থানীয়দের বাড়িঘরেও বড় ধরনের চুরির আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাতাব্বর হাট মেঘনা নদীর পাড় ও বেড়িবাঁধ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ এই চোরচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সরকারি ও বেসরকারি মালামাল উদ্ধারসহ সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।





