‘হৃদয়ের ঢাকা ৪১৬’: শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ের ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ঢাকাকে নিয়ে চিত্রকর্ম আঁকা বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীদের সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উৎসবে গর্বে দায়িত্বে’।

আরও পড়ুন: কদমতলীতে দোকানে ঢুকে গুলি: গ্রেফতার ৪, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম শেখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও প্রথিতযশা শিল্পীদের ক্যানভাসে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয় করে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ অতীতকে ভিত্তি করেই আধুনিক সমাজ সমৃদ্ধ হয়।

আরও পড়ুন: রাজধানীর যেসব এলাকায় বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

তিনি ডিএসসিসির ‘হৃদয়ে ঢাকা’ কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন নগরবাসীর মধ্যে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ব্রিটিশ আমলে যেভাবে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীরা একত্রিত হয়ে ঢাকার চিত্র এঁকেছিলেন, তার শত বছর পর ডিএসসিসি আবারও প্রথিতযশা শিল্পীদের নিয়ে ঢাকাকে তুলে ধরার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি অনন্য উপহার।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বলেন, চিত্রশিল্প সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। ভাষার প্রচলন ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আগে থেকেই মানুষ চিত্রশিল্পের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে আসছে।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে চিত্রশিল্পীদের অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করে জয়নুল আবেদিন, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দেবদাস চক্রবর্তী, স্বপন চৌধুরী ও নুরুন্নবী খানের মতো বীর শিল্পীদের ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের হীনম্মন্যতা দূর করে তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঁচটি বিভাগে মোট ১৫ জন বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকাকে নিয়ে আঁকা ৪২টি চিত্রকর্মের জন্য ৪২ জন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পীকে সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালার ৪ নম্বর গ্যালারিতে এসব ৪২টি চিত্রকর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী শেষে চিত্রকর্মগুলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে অবস্থিত ‘নগর জাদুঘরে’ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে।