বিশ্ববাজারে সোনা-রুপা-তেলের দামে বড় ধস

Any Akter
অর্থবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৯ অপরাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা, রুপা, অপরিশোধিত তেল ও তামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই এসব পণ্যের দামে হঠাৎ এই ধস নামে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের ফোনালাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের সম্ভাবনায় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে আসছেন। খবর রয়টার্স।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রুপার বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে একদিনেই রুপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একই সময়ে সোনা, অপরিশোধিত তেল ও তামার দামও প্রায় ২ শতাংশ করে হ্রাস পায়।

আরও পড়ুন: এলপি গ্যাসের ভ্যাট কমালো সরকার, বাজারে দাম কমার আশা

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় পণ্যবাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব পণ্য তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান ধাতুসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে অস্বাভাবিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে বাজারে সেই অস্থিরতার পরবর্তী ধাক্কার প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুন: বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় তেলের বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত প্রিমিয়াম কমে গেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর বাণিজ্য উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা উচ্চ দামে সোনা বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন।

এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এশীয় লেনদেনে ডলার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। তবে ডলারের সূচক দুই সপ্তাহের উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতেই পণ্যের দামে চাপ তৈরি হয়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে সম্ভাব্য ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেন। কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কায় ডলার আরও শক্তিশালী হয় এবং সুদহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ও রুপার আকর্ষণ কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের বাজারে, যেখানে দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়।

চাপের মুখে রয়েছে তামার বাজারও। চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের গুদামে মজুত বাড়ার খবরে তামার দাম কমেছে। যদিও এর আগে চীন কৌশলগত তামা মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার ঘোষণা দিলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি এসেছিল।

ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, বাজারে তারল্য কম থাকায় একটি খাতের বিক্রি দ্রুত অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে পতন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। এই প্রভাব মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও দেখা যাচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম কমেনি। অন্যান্য পণ্যের বিপরীতে সয়াবিনের দাম বেড়ে দুই মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি বাড়াতে পারে—এই প্রত্যাশায় বাজার চাঙ্গা হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ মজুতের চাপে লৌহ আকরিকের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।