নতুন বইয়ের আনন্দে প্রাথমিক, অপেক্ষায় মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:৪০ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই স্কুলে ছুটে এসে রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরেছে শিশুরা—কেউ পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার বইয়ের ঘ্রাণে মগ্ন। তবে একই দিনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাধ্যমিক স্তরে। কোথাও আংশিক বই, কোথাও একেবারেই বই না পাওয়ায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বহু শিক্ষার্থীকে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক বিক্রি করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

সকাল থেকেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিক্ষকরা নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফলাফল যাচাই করে হাতে তুলে দেন নতুন পাঠ্যবই। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালবেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া শুরু হয়।

বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে শতভাগ বই পৌঁছেছে। তিনি বলেন, প্রথমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই দেওয়া হচ্ছে, এরপর পর্যায়ক্রমে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী আজই বই পাবে।

আরও পড়ুন: প্রকাশ হলো ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা

তিনি আরও জানান, এবার বই বিতরণে কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান করা হয়নি। রোল ধরে ডেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ত্রুটি রয়েছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখে নিতে বলা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লাগছে।

নতুন বই পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান বলে, নতুন বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। বইগুলো অনেক সুন্দর। বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধবো।

আরেক শিক্ষার্থী ফাইয়াজ মাহমুদ জানায়, বাসায় গিয়েই সব বই পড়তে শুরু করবো।

তবে প্রাথমিকের এই আনন্দের চিত্রটি সর্বত্র নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত হলেও মাধ্যমিক স্তরে চাহিদামতো বই না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোথাও কেউ পেয়েছে দুটি বই, কেউ তিনটি, আবার কেউ একটিও পায়নি।

খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে গল্প করছে বা বাইরে খেলাধুলায় ব্যস্ত। তারা জানায়, কখন বই দেওয়া হবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি। শিক্ষকরা বিকেল পর্যন্ত স্কুলে থাকতে বলেছেন, বই এলে ডেকে নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে বই বিতরণের রেজিস্টার হাতে শিক্ষকরা হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত ছিলেন। কোন শ্রেণির কোন বিষয়ের কতটি বই এসেছে, তার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

সহকারী শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এসেছে। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি বেশি। এখন কাউকে দুইটা আর কাউকে তিনটা বই দিলে বৈষম্য তৈরি হবে। তাই হিসাব করে বই দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই ও কাটিং শেষে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। ফলে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম এখনো চলমান। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে পারব—এমন কথা আমরা বলছি না। তবে যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে বই দেওয়ার চেষ্টা করছি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে এবছর বই বিতরণে কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা নেই। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বই বিতরণ চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে বই বিতরণে সব ধরনের অনুষ্ঠান পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বলেন, এবার কোনো বই উৎসব হচ্ছে না। শুধু নিজ নিজ স্কুলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন। ১ জানুয়ারি সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে।