‘টাকা চাইলে নিয়ে যাক, শিডিউল চাইলে দেব’: শরিফুল রাজ

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪২ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
শরিফুল রাজ। ছবিঃ সংগৃহীত
শরিফুল রাজ। ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার অভিনেতা শরিফুল রাজকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ঠিকানা’ সিনেমা। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, শুটিংয়ের শিডিউল না দেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে অভিনেতাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সিনেমাটির প্রযোজক শাহরিন আক্তার। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তবে আইনি নোটিশ পাওয়ার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রাজ। তার প্রশ্ন, প্রযোজকপক্ষ আসলে টাকা চায়, নাকি শুটিংয়ের শিডিউল?

আইনি নোটিশ প্রসঙ্গে শরিফুল রাজ বলেন, ‘একবার বলে টাকার কথা, আমি নাকি টাকা দিচ্ছি না। আবার বলে শিডিউলের কথা। তারা আসলে কী চায়? টাকা চাইলে নিয়ে যাক। আর যদি শিডিউল চায়, সেটা তো অবশ্যই দেব। আমি তো সিনেমা করতে এসেছি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে শিডিউল দেইনি, এমন কেউ বলতে পারবে না। আমি সব সময় সিনেমাই করব।’

আরও পড়ুন: জবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গাইবেন জেমস

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রযোজক শাহরিন আক্তারের পক্ষ থেকে পাঠানো আইনি নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয় রাজকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

বিরোধের সূত্রপাত মূলত সিনেমার শুটিংয়ের শিডিউল ও মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে। ২০২৭ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তির পরিকল্পনা সামনে রেখে ‘ঠিকানা’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন শরিফুল রাজ। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন জুবায়ের ইবনে বকর।

আরও পড়ুন: সত্যিই কি ‘গুলশানের চামেলি’ ছাড়ছেন মধুমিতা?

শনিবার প্রযোজক শাহরিন আক্তার বলেন, রাজের সঙ্গে চুক্তি ছিল, ঈদুল ফিতরে তিনি অন্য কোনো সিনেমায় যুক্ত হতে পারবেন না। তিন মাস সময় নিয়ে বিষয়টি জেনে-বুঝেই রাজ সিনেমাটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এ জন্য তাঁকে এক-চতুর্থাংশ সাইনিং মানি দেওয়া হয়েছে।

শাহরিন আক্তারের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে রাজ তানিম নূরের একটি সিনেমায় কাজ শুরু করেন, যেটিও ঈদে মুক্তির পরিকল্পনায় রয়েছে। বিষয়টি মেনে নিলেও সম্প্রতি আরও একটি সিনেমায় তাঁর চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর জানতে পারেন প্রযোজক। একই ঈদে একজন অভিনেতার তিনটি সিনেমা মুক্তি পেলে ‘ঠিকানা’ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

প্রযোজক আরও বলেন, ‘এই সিনেমার গল্পই তৈরি হয়েছে শরিফুল রাজকে ঘিরে। তাকে ছাড়া অন্য কোনো নায়ককে আমরা চিন্তা করিনি। সিনেমাটির জন্য এরই মধ্যে ৪০ লাখ টাকার বেশি খরচ করে ফেলেছি। আমরা শুটিং শুরুর জন্য তিন মাস ধরে রাজের কাছে শিডিউল চাচ্ছি, কিন্তু তিনি গড়িমসি করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সিনেমাটি নিয়ে নেতিবাচক কথা বলে বেড়াচ্ছেন। উপায় না পেয়ে তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি।’

তবে প্রযোজকের এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নন শরিফুল রাজ। তাঁর দাবি, ঈদে ‘ঠিকানা’ মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও অন্য সিনেমায় কাজ করা যাবে না—এমন কোনো শর্ত চুক্তিতে উল্লেখ নেই।

এ প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘সিনেমাটি ঈদেই আসবে। আর কোনো সিনেমা করা যাবে না, বিষয়টা এমন নয়। তাঁদের ইচ্ছা ঈদে মুক্তি দেবে। কিন্তু অন্য কোনো সিনেমা করা যাবে না—এটা তো চুক্তিতে নেই। আবার তাঁদের সিনেমা ঈদে আসবে, এটাও তো নয়। নোটিশে ঈদের পরে মুক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা সেভাবে কাজটি করতে পারতাম। কিন্তু পেশাগত জায়গায় শিডিউলের জন্য এমন অভিযোগ, আইনি নোটিশ আমাকে হতবাক করছে।’

চুক্তির ৪.১১ ধারা এবং আইনি নোটিশের দ্বিতীয় ধারায় সিনেমার মুক্তির সময় নিয়ে করা উল্লেখ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ। তাঁর ভাষ্য, সিনেমাটি ঠিক কবে মুক্তি পাবে, তা চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। এ কারণে তিনিও বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজ বলেন, ‘এখন আমিও আইনিভাবে কথা বলব। চুক্তির ভিন্নতা নিয়ে অনেক কিছু বলতে পারি। আমার কাজ শিডিউল দেওয়া, শুটিং করা। এখন বছরে তো আমি একটা ছবি করছি না। যাই হোক, পেশাগত জায়গায় আমি এসব বিষয়ের চেয়ে কাজ নিয়ে বেশি ভাবতে চাই। প্রযোজক-পরিচালকের প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান রয়েছে, আশা করি তাঁরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।’

সব মিলিয়ে প্রযোজক ও অভিনেতার পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ‘ঠিকানা’ সিনেমার শুটিং ও মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আইনি নোটিশের জবাব এবং দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে এ বিরোধের সমাধান।