হামলা সত্ত্বেও অক্ষত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, উদ্বেগে বিশ্ব
দুই মাসের টানা সংঘাত ও একাধিক সামরিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে। এতে বলা হয়েছে, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রভাব ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমিত। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ইরান চাইলে এখনো প্রায় ৯ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম—যা আগের সময়সীমার কাছাকাছি।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির আগেই ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৬
এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরানের কৌশলগত সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো। তবে অধিকাংশ হামলা পরিচালিত হয়েছে সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর। ফলে মূল পারমাণবিক উপাদান—বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম—প্রায় অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে অগ্রগতিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের
গত বছরের হামলায় কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চলতি সংঘাতে সেই ক্ষতির পরিমাণ বাড়েনি বলেই জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই মজুত আরও প্রক্রিয়াজাত করা হলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এই ইউরেনিয়ামের সঠিক অবস্থান এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশ ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে, যা সরাসরি হামলায় ধ্বংস করা কঠিন।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক কৌশলের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগকেও গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মতে, আলোচনার মাধ্যমেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা সম্ভব।
তবে গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকরভাবে এই কর্মসূচি থামাতে হলে শুধু স্থাপনা ধ্বংস যথেষ্ট নয়; বরং বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে নেওয়া বা নিষ্ক্রিয় করা জরুরি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প—যেমন সরাসরি স্থল অভিযান—নিয়েও ভাবা হচ্ছে। তবে এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঘিরে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ এখনো কাটেনি। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।





