ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত পরশসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪১ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • ৫ আসামির অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ নিহত ও আহতদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ
  • অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায়: চিফ প্রসিকিউটর 
  • ট্রাইব্যুনালের রায় মানি, মান্য করি। কিন্তু আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই: ইসরাত জাহান
  • রায় প্রতিহিংসামূলক: আওয়ামী লীগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ ও মাইনুলের অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ জুলাই-আগস্ট (২০২৪) সময়কালে নিহত ও আহত সব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারবর্গকে ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। রায়ের পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। এবারই প্রথম আমাদের ট্রাইব্যুনাল তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করেছে। তিনি বলেন, সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বিলি বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি আজ ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এর আগে গত ১৭ আগস্ট মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। ২ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এতে তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করেন। গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর একই ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে আসামিরা যৌথভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। সহিংসতার পরিকল্পনায় তারা কয়েকটি বৈঠকও করেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের রাজপথে নেমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, আসামিরা বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সারা দেশে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এসব কর্মকাণ্ড আইনে শাস্তিযোগ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ। এর আগে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। হাসিনার রায়ের প্রায় ১০ মাস পর ওবায়দুল কাদের ও অন্য ছয় আসামির মামলায় এই রায় দেওয়া হলো। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলায় এটি সপ্তম রায়। 

আরও পড়ুন: ‘কাদেরসহ দণ্ডিত ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হবে’

সাত আসামির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: জুলাই আন্দোলনের সময় সাত আসামির বিরুদ্ধে ৪ ধরনের অভিযোগ আনা হয় এই মামলায়। ১. উসকানি ও প্ররোচনা: জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে যৌথভাবে উসকানিমূলক ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া এবং নির্দেশ জারি করা। ২. সহিংসতার পরিকল্পনা: আন্দোলন দমনের জন্য বিভিন্ন বৈঠক করে সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতা চালানোর পরিকল্পনা করা। ৩. দখল ও দমন-পীড়ন: দলীয় নেতা-কর্মী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজপথে নেমে আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালাতে নির্দেশ দেওয়া। ৪. শ্যুট অ্যাট সাইট নির্দেশ: কারফিউ জারি ও শ্যুট অ্যাট সাইট (দেখামাত্র গুলি) আদেশের মতো বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রচার ও বাস্তবায়ন করা। আসামিদের এসব নির্দেশ ও উসকানির ফলে দেশব্যাপী ব্যাপক সহিংসতা, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।

যে অভিযোগে যার যত সাজা: ওবায়দুল কাদেরকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড, ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৩ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাহাউদ্দিন নাছিমকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পান তিনি। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। মোহাম্মদ আলী আরাফাতকেও ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পান তিনি। পরশকে ১ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৩ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মাইনুলকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আলাদা ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাদ্দামকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আলাদা-আলাদা আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ইনানকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

আসামিদের আইনজীবীরা যা বললেন: অন্যদিকে, সাত আসামির সবাইকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচারকাজ চলে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন এম হাসান ইমাম ও আইনজীবী ইসরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামীম। রায়ের পর রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসরাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, সব সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ডকুমেন্টের উপর ভিত্তি করে আসামিদের খালাস করানোর জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যেভাবে এগোনো যায়, সেভাবেই আর্গুমেন্ট ও জেরা করেছি। কিন্তু মাননীয় ট্রাইব্যুনাল আমার চার আসামির বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। সাদ্দাম, ইনান, নিখিল ও পরশের এই আইনজীবী বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় মানতে আইনজীবী হিসেবে আমরা বাধ্য। ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো ধৃষ্টতা আমাদের নেই। ট্রাইব্যুনালের রায় মানি, মান্য করি। কিন্তু আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। কাদের, নাছিম ও আরাফাতের আইনজীবী হাসান ইমাম বলেন, আমরা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করেছি। জেরা করেছি, আর্গুমেন্ট করেছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রিন্সিপাল অব কমন রেসপনসিবিলিটির সুবিধা-অসুবিধা সবকিছু মাননীয় ট্রাইব্যুনালে ব্যাখ্যা করেছি। রায়ে আমাদের এসব বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, রায় না দেখে বলতে পারব না। হাসান ইমাম বলেন, আমি একজন জজ ছিলাম। সেই হিসেবে বলছি, মাননীয় বিচারপতিদের জাজমেন্টের বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই, কিংবা বলার মতো ধৃষ্টতাও নেই। তবে আমিও এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। সুযোগ থাকলে আপিল করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপিলে হয়তো আমরা আরও ভালো কোনো ফল পেতে পারি, ইনশাল্লাহ, আগামী দিনগুলোতে।

এদিকে, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে তাকে ‘একতরফা, পক্ষপাতদুষ্ট ও সাজানো রায়’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি। দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতা ও দলটির ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে এ রায় নিয়ে ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের মৌলিক নীতি লংঘন করে ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায়’ শীর্ষক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা করেছে। বিবৃতিতে দলটি বলেছে, এই বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের মৌলিক ও সর্বজনস্বীকৃত নীতিগুলোর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হয়েছে, যা আইনের শাসনের পরিবর্তে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকেই প্রতিষ্ঠিত করে। আওয়ামী লীগের দাবি, শুধু এই রায় নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে মহৎ উদ্দেশ্যে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল, বর্তমান অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকার সেই পবিত্র উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক জিঘাংসা চরিতার্থ করতে এবং একমাত্র আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও নিশ্চিহ্ন করতে এই ট্রাইব্যুনালকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ও মৌলিক মানবাধিকারের স্বীকৃত নীতিগুলোকে পদদলিত করে রাজনৈতিক আজ্ঞাবহ আদালতে দেওয়া এই মিথ্যা ও বানোয়াট রায়ের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

৭ জনের ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাতজনের ফাঁসির রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় হাইকোর্টের সামনে একটি ককটেল ছুড়েছে। সেট ‌বড় বিষয় নয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হাইকোর্টের সামনে হয়তো দুজন আওয়ামী দুষ্কৃতকারী ককটেল ছুড়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আমরা অলরেডি আইডেন্টিফাইড (শনাক্ত) করেছি তারা কারা।